বৃহস্পতিবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীর যে এলাকায় বাঁশের সাকোই একমাত্র ভরসা

চলাচলে বাঁশের সাকোই একমাত্র ভরসা। বছরে তিন থেকে চারবার সেই সাকো নির্মাণ করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনাও। অথচ পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের দাবি অধরাই থেকে যাচ্ছে। এই দুরাবস্থা খোদ রাজধানীর আফতাব নগর ও রামপুরা এলাকার মাঝের জলাধারটিতে।

এটা নগরজীবন। পাড়াপাড় করতে হয় বাশের সাঁকোয়। সতর্ক থাকলে ভালো, একটু অসাবধানতায় ধপাস। জীবনটাই ঝুঁকির মধ্যে। তারপরও প্রয়োজন তো বাধা মানেনা।

জীবন-জীবিকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতে পাড় হতে হয় খাল। বলছিলাম, রাজাধানীর রামপুরা বেগুনবাড়ি খালের কথা। যেটা অর্ধ শতক আগেও স্রোতস্বীনি নড়াই নদী ছিলো। 

স্থানীয়রা জানান, বাচ্চারা যাওয়া-আসা করে, একটু বৃষ্টি হলে এগুলো স্লিপ করে। এখানে কলেজ-ইউনিভার্সিটি আছে, সব স্টুডেন্ট যখন একত্রে আসে তখন ভীড় লেগে যায়। সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে থেকেও নাগরিক সুবিধা মিলছে না।

বাঁশের সাকোর ওপর টা যতটা ঝুঁকি, নীচেরটা তারও বেশি। কালো পানিতে বিছানো বৈদ্যুতিক তারের বিছানা। ময়লা, আবর্জনা, সুয়্যারেজ বর্জ্য কি নেই? মানুষের চাপ নিতে নিতে বাঁশও কাহিল হয় অল্প দিনেই।

ভুক্তভোগীরা জানান, আসলে এটি দেখার কেউ নাই, না হলে এতোদিনে সেতু হয়ে যাওয়ার কথা। এবছর এই সাঁকোতে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। 

রামপুরা ও আফতাব নগরকে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণ না হবার পেছনে খালটি ভরাট করে ফেলার সূক্ষ ষড়যন্ত্রের কথা জনজনে। যেভাবে দখল দুষণ চলছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে এটি দাঁড়াবে সমতল একটা ভূমিতে। 

নোঙর চেয়ারম্যান সুমন সামস বলেন, “সীতলক্ষ্ম্যা, বালু, তুরাগ নদীর সঙ্গে এখনও এই খালের সংযোগ আছে। নদী নদী বলছি, তারা এটাকে খাল বললো, কবে এটাকে ড্রেন হিসেবে তারা ঘোষণা করবে। দুই দিক থেকে তারা এটাকে আরও মেরে ফেলবে। সেটা আমরা হতে দেবোনা।”

অন্য মৌসুমে যা হোক নিজ দায়িত্বে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়, তীব্র শীত কিংবা ভরা বর্ষায় জনদুভোর্গ পৌঁছে চরমে। সবার প্রশ্ন, কবে মিলবে এই জনদুর্ভোগের সবাধান? কবে, এই নদীতে দেখা যাবে কংক্রিটের সেতু?

এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার। রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে থাকার পরও এরকম গ্রাম্য পরিবেশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয় আফতাব নগর ও রামপুরার বাসিন্দাদের। তাদের প্রতিবছরই নিজেদের টাকা খরচ করে এরকম সাঁকো বানাতে হয়। আর জনপ্রতিনিধিরা, মেয়র, কাউন্সিলররা প্রতিবারই ভোটের সময় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান যে এই সেতুটি স্থায়ীভাবে করে দেওয়া হবে। তাদের প্রতিশ্রুতি, প্রতিশ্রুতি হিসেবে থেকে যায়। ভোগান্তি এই শহরের বাসিন্দাদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ