ব্যুরো চীফ, বরিশাল
দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধ রোধে কেন্দ্র থেকে কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন উঠেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই প্রভাবশালী নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
সূত্রমতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহুল কাঙ্ক্ষিত কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। সে লক্ষ্যে বাবুগঞ্জ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ চলছিল জোর প্রস্তুতি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতারা সম্মেলন ঘিরে মাঠে সরব হয়ে উঠেছিলেন। হঠাৎ করে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সর্বত্র সম্মেলন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে সম্মেলন স্থগিতের খবরটি অনেকেই গুজব বলে দাবি করলেও সবশেষ শুক্রবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। উভয় প্রভাবশালী নেতা বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপরদিকে উপজেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের আয়োজনে উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ কেন্দ্রের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে।
এর আগে ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে সুলতান আহমেদ খানকে আহ্বায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি বলেন, বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জের ছয়টি ইউনিয়নের বিতর্কিত ও বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহাল করে পছন্দের লোকজন দিয়ে সম্মেলন করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ফলে তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে আসায় সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা সন্নিকটে থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল এই সম্মেলন আপাতত স্থগিত করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সম্মেলনের নতুন তারিখ জানানো হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দল তাই চায় না স্থানীয়ভাবে বিরোধ আরও বৃদ্ধি পাক। যে কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।








