,

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমানোর জন্য ৩ দিনের আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল

কাপ্তাই হ্রদের তীরবাসী হাজারো মানুষের জনদূর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়ে রাঙ্গামাটির সচেতন নাগরিক ঐক্য ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এই সংগঠনের ব্যানারে রাঙ্গামাটির সাধারণ জনগণের পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জোবায়দা আক্তারের কাছে জমা নেওয়া হয়।

এ সময় রাঙ্গামাটি সচেতন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক জুই চাকমা, ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, পলাশ চাকমা, নুরুল আবচার, শাখাওয়াত হোসেন, মোঃ বাদশাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। হ্রদ সৃষ্টি হওয়ার সময় এর পানির ধারণ ক্ষমতা ছিল ১০৯ ফুট। কিন্তু ক্রমান্বয়ে তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ থেকে ১০৬ ফুটের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

ফলশ্রুতিতে বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকা, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার হাজার হাজার বসতঘর এবং বিস্তীর্ণ ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যায়। চলতি বছরও অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় দুই মাস ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিতে তলিয়ে আছে।

এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে পড়ালেখা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া গত দুই মাস ধরে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে থাকার কারণে পর্যটন ব্যবসায়ও ধ্বস নেমেছে। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি থাকলেও পর্যটকদের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং পর্যটন ব্যবসায় ধ্বস ঠেকাতে আগামী ৩ দিনের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানি সহনীয় পর্যায়ে কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আরও জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ