ব্যুরো চিফ, বরিশাল
জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নিশ্চিত করা, গণহত্যার বিচার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারকৃৎ আনা ও বিচারকালীন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন করার দাবীতে বরিশালের দশ উপজেলায় যুগপৎ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশালের আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, কাজিরহাট ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
গণমিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য হয়নি, বরং দেশ থেকে স্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল এবং অনেকেই জীবন দিয়েছেন। তাই জুলাই পরবর্তী ব্যবস্থা অবশ্যই স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধক হতে হবে; এজন্য পিআর পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। যারা পিআর নিয়ে মিথ্যাচার করছেন, তারা সুপ্ত ও সম্ভব্য ফ্যাসিবাদ হিসেবে জাতির কাছে বিবেচিত হবেন বলে তারা সতর্ক করেন।
বক্তারা জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে গণমিছিল পূর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মন্তব্য করেন — “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবৈধ। সংবিধান অনুযায়ী কোনো সরকার পতনের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হয়; তাহলে আপনাদের এই ধরনের পরিকল্পনা কিসের ভিত্তিতে?” তিনি আরো বলেন, দেশের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অবৈধ নির্বাচন আয়োজন জনগণ কখনও মেনে নেবে না।
গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডস্থ জিরো পয়েন্টে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল। রাসেল সরদার মেহেদী আরও বলেন, “কিছু নেতারা বিদেশ থেকে শুভেচ্ছা নিয়ে এসে গণতন্ত্রের কাহিনী বললেও বাস্তবে তারা আন্দোলনের সত্যিকার অংশীদারদের ভুলে যাচ্ছেন। জনগণ একবার যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে, তাহলে পালানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না।”








