ব্যুরো চীফ, বরিশাল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—নিজের জন্য নয়; রাজনীতি করতে হবে দেশের মানুষের কল্যাণে। যারা নিঃস্বার্থভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারেন না, তারা কখনো স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হতে পারেন না। অতীতে যারা দলের চরম দুর্দিনে বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভবিষ্যতের জন্যও তাদের বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।
কথাগুলো বলেছেন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু।
বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, জল্লা ও হারতা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদা মনের মানুষখ্যাত লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু আরও বলেন—পতিত সরকারের সময়ে উজিরপুরের অসংখ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর জুলুম, অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে। সে সময় নির্যাতিতরা মুখ খুলতে সাহস পায়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেইসব অত্যাচারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন—আমার কাছে দলের স্বার্থই সবচেয়ে বড়। আমি রাজনীতি করি দেশের মানুষের কল্যাণে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে। দলের নির্দেশই আমার কাছে সর্বোচ্চ। অতীতে যারা দলছুট হয়ে পতিত সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, এখন আবার তারা বিএনপির ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে তাদের অবস্থান শূন্য। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ওইসব দলছুট বেঈমানদের অনেক আগেই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু আওয়ামী লীগের ব্যর্থ কৃষিনীতি সম্পর্কে বলেন—বিগত ১৭ বছর কৃষক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের দুঃশাসন ও অবহেলার কারণে অনেক কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। দেশের ৮২ ভাগ মানুষ কৃষক, কৃষি হলো জাতীয় শিল্প, অথচ আওয়ামী লীগ এই শিল্পকে ধ্বংস করেছে।
তিনি আরও বলেন—বরিশাল বিভাগের কৃষি উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। সবকিছুই লুটপাট করে খাওয়া হয়েছে। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি বলেন—যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবো। কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার সাধারণ কৃষকের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করবো।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন লাভ করার পরেও দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং দলের সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ানো জনমানুষের আস্থাভাজন নেতা লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু বলেন—দলের প্রয়োজনে অতীতের ন্যায় সবধরনের ত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত। কারণ অধিকাংশ মানুষ ভোগে বিশ্বাসী, কিন্তু আমি ত্যাগে বিশ্বাসী। আশা করছি আমার অতীত ত্যাগের মূল্যায়ন করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবেন।
বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী লায়ন আকতার হোসেন সেন্টুর সঙ্গে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








