বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিবেদক
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ঢুলিয়া গ্রামে কৃষকের ফেলা চায়না রিং নেটে ধরা পড়েছে একটি বিশাল আকৃতির গোমা সাপসহ একাধিক বিষধর সাপ। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢুলিয়া গ্রামের এক কৃষক রাতের বেলা মাঠের উন্মুক্ত জলাশয়ে চায়না রিং নেট পেতে রাখেন। সকালে জাল তুলতে গিয়ে তিনি অদ্ভুত শব্দ শুনে ভয় পেয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জাল ওপরে তুললে দেখা যায়—একটি বিশাল গোমা সাপ, দারাস, চন্দ্রবোড়া, গুইসাপসহ আরও কয়েকটি বিষধর সাপ তাতে আটকা পড়েছে।
ভিডিও নীচের লিংকে:
https://www.facebook.com/share/r/1Cnx5ceVeX/
গ্রামবাসীরা জানান, সাপগুলো জাল থেকে উঠিয়ে আনার পর আতঙ্কে তারা সবাই মিলে সেগুলো মেরে ফেলেন। কেউ কেউ বলেন, কয়েকদিন আগে একই এলাকায় এক কৃষকের জালে প্রায় ৩০টি বিষধর সাপ ধরা পড়েছিল, পরে সেগুলো এক সাপুরিয়াকে ডেকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চায়না রিং নেটের কারণে শুধু সাপ নয়—দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই জালে ছোট রেনু ও পোনা থেকে শুরু করে বড় মাছ পর্যন্ত নির্বিচারে আটকা পড়ছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
প্রকৃতি ও পরিবেশপ্রেমীরা বলছেন, এই চায়না নেট ব্যবহারে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে এসব জাল ব্যবহারে কোনো কার্যকর তদারকি নেই। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে দেশীয় মাছ ও প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে চায়না রিং নেটের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জেলে ও কৃষকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা আর এসব ক্ষতিকর জাল ব্যবহার না করেন।








