রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরাইলকে সহায়তার অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির পর গাজায় নিজেদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তারা।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি দমন অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ইসরাইলের সঙ্গে যোগসাজশ ও হামাসবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়। সংঘর্ষে হামাসেরও অন্তত ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গাজার দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে হামাসের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করা বিভিন্ন গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। হামাস তাদের নির্মূল করতেই এ অভিযান শুরু করে।

এরই মধ্যে রাফাহ অঞ্চলে হামাস-বিরোধী নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। গাজার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, হামাস ইতিমধ্যে আবু শাবাবের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে হত্যা করেছে এবং আবু শাবাবকেও হত্যার চেষ্টা চলছে। হামাস তাকে ইসরাইলের সহযোগী বলে দাবি করলেও, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সোমবার সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন বন্দুকধারী রাস্তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসা সাতজনকে গুলি করছে। তাদের মাথায় হামাসের সবুজ ফিতা বাঁধা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। উপস্থিত জনতা নিহতদের ‘ইসরাইলি সহযোগী’ বলে চিৎকার করছিল। রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

এর আগেও গত মাসে হামাস নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ একই অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

সোমবারই হামাস ইসরাইলের হাতে আটক থাকা শেষ জীবিত ফিলিস্তিনি জিম্মিদের মুক্তি দেয়। এ সময় হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা পুরো গাজাজুড়ে মোতায়েন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি গাজায় হামাসের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং ভবিষ্যতে কোনো স্থায়ী চুক্তি কার্যকর করার পথে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা রয়টার্সকে বলেন, “গাজায় কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি হতে দেবে না হামাস। আমরা জননিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

হামাস জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত, তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেবল ফিলিস্তিনিরাই—কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেহাম ওউদা মনে করেন, “এই দমন অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতাকারী গোষ্ঠীগুলোকে ভয় দেখানো এবং হামাসের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হামাস আন্তর্জাতিক মহলে প্রমাণ করতে চাইছে যে, গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, “হামাস বোঝাতে চাইছে—যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়া গাজা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়।”

গাজায় এই দমন অভিযান যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এরই মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ