,

মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ২১ দিনে ৪৪৮ মামলা

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে সারাদেশে ইলিশ শিকার, সংরক্ষণ ও পরিবহনে ২২দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। যা বলবৎ থাকবে আজ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রথমবারের মতো এবার নদীতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। জল কামান ব্যবহার করা হয়েছে অসাধু ইলিশ শিকারিদের দমাতে। তবুও বিভিন্ন নদীতে দেখা মিলছে শতশত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার।

পাশাপাশি এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে জেলেদের সাথে অভিযানিক দলের অর্ধশত সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা শতাধিক। মৎস্য বিভাগের দাবি, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চলতি বছর নদী দাপিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে অসাধু জেলেরা।

আরও পড়ুন:

https://potheprantore.com/bangladesh/barisal/%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%98%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a7%aa%e0%a7%a9-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%b0/

এবার বরিশালে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ইলিশের হটস্পট মেঘনাতেই ঘটেছে ২০টি সংঘর্ষ। সিনেমার মতোই ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে জেলে আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত এসব সংঘর্ষে। জেলেদের অর্তকিত হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য একাধিকবার ফাঁকা গুলি করেও তাদের (জেলে) দমাতে পারেননি।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানিক দলের ওপর জেলেদের হামলার ঘটনায় সিনিয়র মৎস্য অফিসার, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার সদস্য ও জেলে মিলে আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, আমাদের টিম বারবার জেলেদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছে। জেলেরা যেকোন উপায়ে মারমুখীভাবে আচরণ করছে এবং ইলিশ ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলেদের হামলায় আহত হয়েও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বরিশালের বিভাগের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করা ইলিশের হটস্পট মেঘনা নদীর বরিশালের হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন-গত ২১ দিনে (২৪ অক্টোবর সন্ধা পর্যন্ত) হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত অভিযান সফল করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দিনরাত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন-এ সময়ের মধ্যে অভিযানে ৪৪৮ জন অসাধু জেলেকে আটক করা হয়েছে। যারমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ১৫২ জনের কাছ থেকে ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ১২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

হামলার প্রসঙ্গে সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম বলেন-যেকোন মূল্যে সরকারের নির্দেশ পালনে সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম, আছি এবং থাকবো। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন-নিষেধাজ্ঞা শুরুর পূর্বে প্রত্যেক জেলেকে নিয়ে অসংখ্যবার মতবিনিময় করেছি। তখন তাদের কাছ থেকে আমরা আশস্ত হয়েছি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর সেইসব জেলেদের নদীতে দেখে খুব কস্ট পেয়েছি।

অপরদিকে আটক জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের দেয়া মাত্র ২৫ কেজি চালে সংসার চলেনা। সরকারি ক্ষুদ্র সহায়তায় সংসার চালানো কষ্টকর। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তারা নদীতে নেমেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম টেকসই করতে প্রয়োজন সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেয়া উচিত। একইসাথে তাদের মধ্যে একটি মোটিভেশনাল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা দরকার-যে তারা দেশের জাতীয় স্বার্থে এই কাজটি করছেন। যদি এভাবে আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রেরণা দুটোই নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এ ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ দিনে বিভাগে প্রায় সাতশ’ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ