দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপালে পথের দাবিতে অবরুদ্ধ দলিত ৬টি পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার সময় উপজেলার ভাগা বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা হাতিরবেড় গ্রামে ছয়টি অসহায় পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ৬ বছর ধরে নিম্নবর্ণের হিন্দু ওই পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। কারণ, যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
তারা আরও জানান, হাতিরবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তারা বসবাস করেন। মৃত নিরোদ দাসের পাঁচ ছেলে—সঞ্জয় দাস, কিশোর দাস, নয়ন দাস, অসীম দাস ও কৃষ্ণ দাস এবং সঞ্জয় দাসের ছেলে সজল দাসের মোট ছয়টি পরিবারের ২৩ জন সদস্য বসবাস করেন। এর মধ্যে ১১ জন শিশু ও কিশোর রয়েছে।
প্রায় ছয় বছর আগে বিদ্যালয় মাঠ সুরক্ষার জন্য চারপাশে উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সেই দেয়াল ঘিরে ফেলার ফলে এসব পরিবারের বসতবাড়ি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়েই তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। দেয়াল নির্মাণের পর থেকে তারা দেয়ালের নিচের একটি ছোট ফাঁক গলে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওই সংকীর্ণ ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। কারও মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে, আবার বর্ষাকালে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। পূর্বদিকে ডোবা ও পশ্চিমে অন্যের বসতবাড়ি থাকায় বিকল্প পথও নেই।
সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক মো. মাজেদুর রহমান জুয়েল বিষয়টি সবার নজরে আনেন। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো সমাধান মেলেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পান্না আক্তার বলেন, “দেয়াল নির্মাণের সময় আমরা বলেছিলাম, এক হাত জায়গা ছাড়লে তাদের জন্য পথ রাখা যাবে। কিন্তু তারা জায়গা দিতে রাজি হয়নি।”
তবে সঞ্জয় ও কিশোর দাস এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কখনো জায়গা দিতে অস্বীকার করিনি। আমাদের কথা কেউ শোনেনি।”
এ বিষয়ে ইউএনও মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, “বিষয়টি অমানবিক হলেও এটি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। তারা চাইলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, “এটি সত্যিই দুঃখজনক ও অমানবিক। জেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর আকুতি—
“আমাদের জন্য একটা ছোট্ট চলাচলের পথ খুলে দিন। আমরা আর দেয়ালের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে থাকতে চাই না।”








