মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মামলাবাজ বড় ভাইয়ের কারণে নিঃস্ব ছোট ভাই

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

পাওনা টাকা চাওয়ায় এবং পৈতৃক সম্পত্তির বণ্টননামা থেকে বৃদ্ধ মা ও তিন বোনকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদ করায় জের ধরে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে ছোট ভাইয়ের। এরপর থেকে কারণে-অকারণে অদ্যাবধি থানায় দশটি লিখিত অভিযোগ, একটি জিডি ও আদালতে একটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে ছোট ভাইকে।

মামলাবাজ বড় ভাইয়ের হয়রানির শিকার হয়ে ছোট ভাই আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় একাধিকবার পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আয়োজন করা হলেও প্রতিটি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বড় ভাই আইউব আলী হাওলাদার। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের।

আরও পড়ুন:

https://potheprantore.com/bangladesh/barisal/%e0%a7%a7%e0%a7%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%be/

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ওই গ্রামের মৃত মনজুর আলী হাওলাদারের ছোট ছেলে গৌরনদী বন্দরের ব্যবসায়ী খলিল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন—তার বড় ভাই, ইজিবাইক চালক আইউব আলী হাওলাদারের ছেলে ইসমাইল হোসেনকে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় তাকে তিন লাখ দশ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা পরিশোধ না করে তার বড় ভাই নানা তালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে প্রথমে তার ভাই আইউব আলী হাওলাদারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়।

খলিল হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তার বাবার রেখে যাওয়া সহায়-সম্পত্তি থেকে বৃদ্ধা মা রিজিয়া বেগম ও তিন বোনকে বঞ্চিত করে আইউব আলী একটি বণ্টননামা তৈরি করেন। তাতে বাধা প্রদান করায় দ্বিতীয় দফায় বড় ভাই আইউব আলীর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

খলিল হাওলাদার বলেন—এই দুটি বিরোধকে কেন্দ্র করে কারণে-অকারণে ইতোমধ্যে আইউব আলী তার বিরুদ্ধে থানায় দশটি মিথ্যা অভিযোগ, একটি সাধারণ ডায়েরি ও আদালতে একটি মামলা দায়ের করে হয়রানি শুরু করেছেন।

খলিল হাওলাদার অভিযোগ করেন, থানার কতিপয় দারোগার সোর্স হিসেবে পরিচিত আইউব আলীর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির বাগবিতণ্ডা হলেও সেসব ঘটনায় তাকে (খলিল) অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হয়। খলিলের পক্ষালম্বন করে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় আইউব আলী তার অপর ভাই আবদুল জলিলের বিরুদ্ধেও থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উপায়ন্তর না পেয়ে সম্প্রতি খলিল হাওলাদার ও তার অন্যান্য ভাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হওয়ার পর উভয়ের সম্মতিতে মীমাংসার আয়োজন করা হয়। সেই মীমাংসা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন থানার সোর্স হিসেবে পরিচিত মামলাবাজ আইউব আলী হাওলাদার।

পরবর্তীতে মীমাংসা বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আইউব আলীর বাগবিতণ্ডা হলে উল্টো খলিল হাওলাদারকে অভিযুক্ত করে আইউব আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ ওই সাধারণ ডায়েরির তদন্ত না করেই আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেছে।

সাধারণ ডায়েরির সাক্ষী কালাম হাওলাদার ও তুহিন হাওলাদারসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন—তাদের সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এমনকি থানা পুলিশ কখনও তাদের সঙ্গে কথাও বলেননি। এছাড়া সাধারণ ডায়েরিতে যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তারা ওই এলাকায় উপস্থিতও ছিলেন না।

ভুক্তভোগী খলিল হাওলাদার বলেন—থানার সোর্স হওয়ায় কতিপয় দারোগার ইন্ধনে তার বড় ভাই আইউব আলী হাওলাদার একের পর এক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করে আসছেন। মামলাবাজ ভাইয়ের এসব হয়রানি থেকে রেহাই পেতে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আইউব আলী হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে থানার সোর্স পরিচয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন—অহেতুক কোনো মানুষকে হয়রানি করার প্রশ্নই আসে না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ