শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনিল আম্বানির ৮৫৩ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ৮৫৩ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭৫ বিলিয়ন রুপি) সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে দেশটির আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থপাচার ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইডির এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে একাধিক অফিস, আবাসিক ইউনিট ও ১৩২ একরের বেশি জমি। ইডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের (R-ADAG) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনগণের অর্থের ‘জালিয়াতিমূলক অপব্যবহার’ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অর্থ বৈধ দাবিদারদের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছোট ভাই অনিল আম্বানি একসময় বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে গত দুই দশকে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ক্রমে ভেঙে পড়েছে।

রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইডির এই পদক্ষেপ কোম্পানির চলমান ব্যবসা বা কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ইডি জানায়, চলতি তদন্তটি শুরু হয়েছে আগস্ট মাসে, ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দাখিল করা একটি ফৌজদারি মামলার ভিত্তিতে। ওই মামলাটি এসেছিল দেশের বৃহত্তম ঋণদাতা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)-এর করা একটি জালিয়াতির অভিযোগ থেকে।

ইডির দাবি, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো “এভারগ্রিনিং লোন” পদ্ধতির মাধ্যমে ১৩৬ বিলিয়ন রুপিরও বেশি অর্থ সরিয়ে নেয়। এতে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো ঋণ পরিশোধের ভান তৈরি করা হয়। এছাড়া ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে তারা ইয়েস ব্যাংক (YES Bank) থেকে ১০০ বিলিয়ন রুপির বেশি সরকারি তহবিল গ্রহণ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রিলায়েন্সের মুখপাত্র অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অনিল আম্বানি এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন।

উল্লেখ্য, অনিল আম্বানিকে সর্বশেষ ২০১৮ সালে আলোচনায় দেখা গিয়েছিল, যখন বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তবে সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অনিল আম্বানি উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত তদন্তের আবেদন খারিজ করে দেয়।

এই সর্বশেষ পদক্ষেপে একসময় ভারতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ