কাশেম হাওলাদার, বরগুনা
বরগুনার আমতলীতে নৌবাহিনী ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের জব্দকৃত প্রায় ১,৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ থানার ভেতর থেকে লুট হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান। এ ঘটনায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছে আমতলী থানা পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কয়েকজন জেলে নদীতে মাছ ধরছিলেন। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১,৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করে। পরে জব্দকৃত মাছ আমতলী থানায় মজুদ রাখা হয় এবং বিকেলে স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল।

এ সময় বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ করে দুই শতাধিক লোক থানায় প্রবেশ করে জাটকা মাছগুলো লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুটের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই মাছ লুটের ঘটনা ঘটে, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্থানীয়রা প্রশাসনের গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতাকেই এ ঘটনার জন্য দায়ী করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, মৎস্য বিভাগ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে, পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও আরেকটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ও থানার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্ধেক মাছ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল, বাকিটা জনতা নিয়ে গেছে—ঠেকানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার বলেন, এতিমখানায় বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় শতাধিক অচেনা লোক হঠাৎ থানায় ঢুকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, থানা একটি সুরক্ষিত স্থান। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








