সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ক্যাবল তারের জঞ্জাল : দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

বরিশাল নগরীজুড়ে ইন্টারনেট ও ক্যাবল অপারেটররা নিজেদের সুবিধামতো বিদ্যুতের খুঁটিতে তার ঝুলিয়ে রেখেছে। এতে করে তারের ওজন বেড়ে গিয়ে অনেক খুঁটি হেলে পড়েছে। ক্যাবল তারের এই জঞ্জালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন নগরবাসী।

সূত্রমতে, বরিশাল নগরীর প্রাচীন জনপদে দেখার মতো অনেক ঐতিহাসিক স্থান থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুতের খুঁটিতে তার ঝুলিয়ে দিন দিন স্থানগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে।

বরিশাল নগরীজুড়ে এখন শুধু তারের জঞ্জাল। রাস্তাঘাট, ফুটপাত, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত সর্বত্র ঝুলছে টেলিফোন, ইন্টারনেট, ক্যাবল টিভি ও বিদ্যুতের অসংখ্য তার।

এসব ঝুলন্ত তার শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, বরং প্রতিনিয়ত জীবননাশের শঙ্কা তৈরি করছে। বরিশাল নগরীর আনাচে-কানাচে ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যেগুলো দখল করে নিচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি।

বরিশালে শহরের ফুটপাথে হাঁটতে গিয়ে কিংবা দোকানের সামনে দাঁড়ালে মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তবে এই অব্যবস্থাপনার দায় নিচ্ছে না কেউ। নগরীর যেকোনো এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে ঝুলন্ত তারের জট, যা শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিচ্ছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি—বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে তার ঝুলে থাকার সংস্কৃতি নতুন নয়। শহরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন এসব তারের শৃঙ্খলা বা অপসারণ।

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, গির্জা মহল্লা, চকবাজার, ফকিরবাড়ি রোড, হাতেম আলী কলেজ চৌমাথাসহ অধিকাংশ জায়গাতেই একই চিত্র। কোথাও বিদ্যুতের তারের সঙ্গে ঝুলছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির তার, আবার কোথাও কাটা তার রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তবে বর্তমানে বরিশালে কতটি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই কারও কাছে।

ইন্টারনেট ও ক্যাবল অপারেটররা নিজেদের সুবিধামতো বিদ্যুতের খুঁটিতে তার ঝুলিয়ে রেখেছে। এতে তারের ওজন বেড়ে গিয়ে অনেক খুঁটি হেলে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে তারের জট বা শর্ট সার্কিটের কারণে। অনেক সময় বিদ্যুৎ ও ক্যাবল তার একসাথে বাঁধা থাকায় একটি লাইনে শর্ট হলে সেটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশালের একটি বেসরকারি ইন্টারনেট কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “তারের জট শুধু দেখার জন্যই বিশ্রী নয়, এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অদক্ষতার প্রতীক। উন্নত দেশে প্রতিটি সংস্থা নিজস্ব ক্যাবল সিস্টেমের জন্য আলাদা পাইপলাইন ব্যবহার করে। ঢাকা ও বরিশালে তা না থাকায় এই বিপর্যয়। অবিলম্বে সমন্বিত ক্যাবল ব্যবস্থাপনা চালু করা প্রয়োজন।”

বরিশাল বিটিসিএল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শামীম ফকির বলেন, “বরিশালে বিদ্যুতের খুঁটিতে তাকালে দেখা যায় কত তার ঝুলছে। বৈদ্যুতিক ঝুঁকি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে বেশিরভাগ কারণই হলো তারের শর্ট সার্কিট। দ্রুত এগুলো অপসারণ করে শৃঙ্খলার আওতায় আনা প্রয়োজন।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) অহিদ মুরাদ বলেন, “বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ইন্টারনেটের তার ঝুলছে—এটা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে তারা এটা করে যাচ্ছে। তবে এসব তারের জঞ্জালমুক্ত করার বিষয়ে প্রশাসক স্যার ও প্রধান নির্বাহী স্যারের সঙ্গে কথা বলবো।”

বরিশাল ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, “অনুমতি না নিয়েই বছরের পর বছর ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ইন্টারনেটের লাইন টানছেন মালিকরা। তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের এসব কাজে বাধা দেওয়া যাচ্ছে না।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ