ব্যুরো চীফ, বরিশাল
স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে চরম ক্ষুব্ধ হন স্বামী। কৌশলে পরকীয়া প্রেমিক তাপস চন্দ্র মণ্ডলকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাপস মণ্ডলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাপস মণ্ডলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখানে টানা ২১ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাপস মণ্ডল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মুক্তেশ্বর মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তাপস মণ্ডল মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মুলাদী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মৃত তাপসের বাবা মুক্তেশ্বর মণ্ডল বলেন, “আমার ছেলেকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। ওই নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে টানা ২১ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত চারটার দিকে তাপসের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।”
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তাপস চন্দ্র মণ্ডল চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতেন। সে সুবাদে তাপস মণ্ডল নোমরহাট এলাকার বাসিন্দা জিতেন কুমার মণ্ডলের ছেলে স্বপন মণ্ডলের বাড়ির একটি ঘরে ভাড়ায় থাকতেন। ওই সূত্রে স্বপন মণ্ডলের স্ত্রীর সঙ্গে তাপসের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি স্বপন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে স্বপন মণ্ডল ও তার লোকজনের সঙ্গে তাপসের সালিশ বৈঠক হয়। পরে মুক্তেশ্বর মণ্ডল তার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তাপস সেখানে ছয় দিন অবস্থান করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
মুক্তেশ্বর মণ্ডল জানান, তাপসের দেশে ফেরার খবর পেয়ে স্বপন কয়েকজন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে তাপসকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত দেন। তাপস গত ২৩ অক্টোবর রাতে স্বপনের বাড়িতে আসার পরপরই স্বপন ও তার লোকজন তাপসের হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরবর্তীতে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
মুক্তেশ্বর মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাপস পানি পান করতে চাইলে তাকে কীটনাশক পান করানো হয়। এ সময় তাপসের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম সরদারকে জানান।
পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান লোকজনের সহায়তায় তাপসকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দিবাগত গভীর রাতে তাপসের মৃত্যু হয়।
মৃত তাপসের বাবা মুক্তেশ্বর মণ্ডল বলেন, “স্বপন মণ্ডলের অনুরোধে তার বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিল তাপস। সেখানে যাওয়ার পর স্বপন মণ্ডল ও তার লোকজন অমানুষিক নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে তাপসকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।”
চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, “গত ২৩ অক্টোবর স্বপন মণ্ডলের বাড়ি থেকে তাপসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়।”
অভিযুক্ত স্বপন মণ্ডল উদ্যোক্তা তাপসকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “তাপস বাড়িতে ঢোকার আগেই কীটনাশক পান করেছে। তাকে বাঁচাতে বমি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।”








