ব্যুরো চীফ, বরিশাল
বাসে হাফভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করেছে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এসময় হামলা ও পাল্টা হামলায় শিক্ষার্থীসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দলসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হামলা শুরুর পর থেকে নথুল্লাবাদ দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. মামুন উল ইসলাম।
বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা জানান, বাস টার্মিনালে গিয়ে মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার চাইলে শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৩০–৩৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে শ্রমিকরা পাল্টা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বিএম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু বকর মুলাদী থেকে বাসযোগে বরিশালে আসার সময় হাফভাড়া দিতে চাইলে বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাসের স্টাফরা তাকে মারধর করে।
বিএম কলেজের ছাত্র মো. রাজু বলেন, মোবাইল ফোনে ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ১৫–২০ জন শিক্ষার্থী নথুল্লাবাদ টার্মিনালে গিয়ে মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেনকে জানাই। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো শ্রমিকদের আমাদের ওপর লেলিয়ে দেন। এতে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, এরপর আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে সহপাঠীদের জানালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে টার্মিনালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে সারিবদ্ধ পার্কিংয়ে রাখা অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শত শত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।
পরিবহন শ্রমিক নেতা আরজু মৃধা বলেন, কলেজ বন্ধের দিনেও হাফভাড়া নিয়ে মুলাদী–বরিশাল রুটে বিরোধ হয়। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এসে ৫০টির মতো বাস ভাঙচুর করে এবং ১৫–২০ জন শ্রমিককে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, হাফভাড়া আমাদের অধিকার। আজ একজন শিক্ষার্থীকে হাফভাড়া দিতে চাইলে মারধর করা হয়েছে। আমরা টার্মিনালে বিচার চাইতে গেলে শ্রমিকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৩০ জন আহত হয়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, রাতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের হামলায় অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুরের ঘটনায় বরিশাল থেকে সব অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাস মালিক সমিতি। ভাঙচুর হওয়া বাস মেরামত না হওয়া পর্যন্ত কোনো রুটে বাস চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।








