স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নেতাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ওই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা ছাড়া গতি নেই।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি নেতাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এখনও লাহোরে স্বর্ণের দোকানে খালেদা জিয়ার ছবি আছে। সেই দোকানের স্বর্ণ তার খুব প্রিয় ছিল। বিএনপির অন্তরে এখনও ‘পেয়ারে পাকিস্তান’ রয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেবল স্বাধীনতা এনে দেয়নি, স্বাধীনতার সুফল এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। নেতৃত্বশূন্য একটা দল ইলেকশন করবে, জনগণ ভোট দেবে কী দেখে? ওই চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা, খুন, অস্ত্র চোরাকারবারি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি- তাদের এ দেশের জনগণ ভোট দেবে এ দেশ চালানোর জন্য? তা তো এ দেশের জনগণ দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তারা জানে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা। এবার বন্যায়ও তো নৌকার জন্য হাহাকার। নৌকা ছাড়া তো গতি নাই বাংলাদেশে- এটাও মনে রাখতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদের জন্মও তো বাংলাদেশে না। না জিয়ার জন্ম বাংলাদেশে, না খালেদা জিয়ার জন্ম বাংলাদেশে- কারো জন্মই না। এরশাদও তো কোচবিহারি। একমাত্র আমার বাবা ছিলেন এই দেশের, আমারও এই দেশের মাটিতে জন্ম। কাজেই মাটির টান আলাদা। এখানে আমাদের নাড়ির টান। কাজেই এই দেশের মানুষের ভাগ্য গড়াটাই তো আমাদের লক্ষ্য। সেই জন্যই আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা। তারা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল। খালেদা জিয়া প্রাইম মিনিস্টার থাকতে পাঁচ-পাঁচবার দুর্নীতিতে এক নম্বর চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সেই ভাবমূর্তি বাংলাদেশের জন্য কতটা অসম্মানজনক। সেখান থেকে আমরা দেশকে পরিবর্তন করে এখন বিশ্বে একটা সম্মানজনক স্থানে নিয়ে গেছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আমরা পেয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে বলছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কীভাবে? মিলিটারি ডিক্টেটরদের পকেট থেকে তৈরি দল, যাদের নেতারা পলাতক, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদের নিয়ে নির্বাচন করতে হবে?’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া স্লোগান দেয়, পঁচাত্তরের পরাজিত শক্তি। তারা তো দেবেই, তারা তো পাকিস্তানের পদলেহনকারী, বেয়াদব।’
‘বন্যায় বিএনপি নেতারা কাউকে সহায়তা দিয়েছে? দেয়নি। ঢাকায় বসে বসে কথা বলছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দুর্গম এলাকায় গিয়ে খাদ্য বিতরণ করছে। এটি নিয়েও তারা সমালোচনা করছে। এটিই তাদের চরিত্র।’
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু করেছি। এটি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিএনপি। দুর্নীতিবাজরা প্রশ্ন তুলে কি করে? তারা নানা প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে। জনগণের জন্য তো কিছুই করেনি। আওয়ামী লীগ নিজের নয়, দেশের জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছে। করছেও তা-ই। খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া নম্বর ওয়ান দুর্নীতির অবস্থান থেকে এখন বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল অবস্থানে নিয়ে এসেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট নির্বাচন করে। ’৭০ সালেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিরা ২০ দলীয় জোট গঠন করেই নির্বাচন করেছিল। ইতিহাসে খোঁজ নিলে পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানুষের পাশে থেকেছে আওয়ামী লীগ। আর এটি করতে গিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের বারবার জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও অসম্ভব কষ্ট করেছেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো কোনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সফলতাও পেয়েছে। ’৭০ সালের ভোটেও বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছিল। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। আর চক্রান্তটাও শুরু হয় সেখান থেকেই। স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলা ও বাঙালির ভালো কিছু মেনে নিতে পারেনি।’








