,

লোডশেডিং দিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

লোডশেডিং দিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : পরিস্থিতি যে অবস্থায় দাড়িয়েছে, তাতে লোডশেডিং দিতেই হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে শুধু আমরা নই, পুরো বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনৈতিক ভাবে শুধু আমরা নই সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বিভিন্ন জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সারের মূল্য বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এখন যে খরচ, আমাদের এখন লোডশেডিং করতেই হবে। কোন এলাকায় কত সময় লোডশেডিং হবে, তা নিদিষ্ট করে দিতে হবে যেন মানুষ প্রস্তুত থাকে।

তিনি বলেন, কোথায় কখন লোডশেডিং করা হবে তা এলাকাভিত্তিক শিডিউল করে জানিয়ে দেওয়া হবে। আমি মনে করি যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু সময়ের জন্য (প্রতিদিন) বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে বলব, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেছে। শুধু তাই না, যেসব শিপমেন্ট হয় তার ভাড়াও বেড়ে গেছে। যেটা হয়তো ৮০০ কোটি টাকায় পেতাম সেটা এখন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটির বেশি লেগে যাচ্ছে। আমরা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতাম, তার দামও বেড়ে গেছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যুতে মোটা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে আমাদের। বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে খরচ, আমরা কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত সে খরচও নিতে পারি না। কিন্তু কত ভর্তুকি আমরা দেব? যেখানে সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। তাই আপনাদের অনুরোধ করবো বিদ্যুৎ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হবেন, সীমিত রাখবেন। তাতে আপনারও লাভ হবে। আপনার বিলও কম উঠবে।

অনেক উন্নত দেশে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এবং জলাশয়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই সবক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হবে।

 

কোন এলাকায় কত সময় লোডশেডিং হবে, তা নিদিষ্ট করে দিতে হবে যেন মানুষ প্রস্তুত থাকে : প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন পুরো বিশ্বেরই নাভিশ্বাস অবস্থা। এ অবস্থায় আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের শিডিউল করে দিতে বলা হয়েছে।

 

পড়ুন : দেশের প্রথম ক্যাম্পাস-ভিত্তিক স্বপ্নের ইনকিউবেটর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 

বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমেরিকা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ইউরোপ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, সারের দাম বেড়ে যাচ্ছে, খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। সে প্রভাব সারা বিশ্বের ওপর পড়েছে, বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। করোনা ও যুদ্ধ না হলে আমরা হয়তো আরও এগিয়ে যেতে পারতাম।

তিনি বলেন, ফার্নেস ওয়েলের দাম ৬২ পার্সেন্ট বেড়েছে। কয়লা যা ছিল ১৮৭ ডলার, এখন ২৭৮ ডলার। ১০০ পার্সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেল ছিল ৮০ ডলার, এখন তা ১৩০ ডলারে চলে গেছে। এটা নাকি ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে সারা বিশ্ব।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও একটি লক্ষ্যে দেশে ফিরে এসেছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেই লক্ষ্য হলো, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। যেন একটা মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারি। অনেক বাধা এসেছে, কিন্তু আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। চুয়েট প্রান্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চুয়েট ভিসি, চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্প পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ