স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরায় ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে সোমবার নিহত হয়েছেন ৫ জন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে একটি প্রাইভেটকারের উপর। উত্তরা জসীম উদ্দীন এলাকার আড়ংয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করতে এবং শাস্তির আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও ব্ল্যাকলিস্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি কোম্পানিকে শর্তসাপেক্ষে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাক লিস্ট) করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। সভাশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একনেক বৈঠকে উত্তরার দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতির তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনা খুব মন দিয়ে শুনেছেন এবং আবেগ তাড়িত হয়ে যান। এরপর তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা যারা জড়িত এবং যেই কোম্পানি জড়িত সবার বিরুদ্ধে তদন্ত-সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া যেসব কোম্পানি কাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিচয় দেয় সেসব কোম্পানি কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য বলেছেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরার ঘটনায় মর্মাহত ও কষ্ট পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— এটা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদারের দায়িত্ব হলো এ ধরনের কাজ যথাযথভাবে করা। তারা নিরাপত্তা না নিয়ে কীভাবে এ ধরনের কাজ করতে পারে? সড়ক পথ বন্ধ না করে তারা কীভাবে এ কাজ করলো। কেন এটা হলো, এটা ক্ষতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এটা সুষ্ঠু তদন্ত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সে যেই হোক এটা গ্রহণযোগ্য নয়। জীবন অনেক মূল্য। ঠিকাদার-পিডি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা মারা গেছেন সবার জীবন মূল্যবান।
এ ঘটনায় নিহত ৫ জন হলেন-হৃদয়ের বাবা মো. রুবেল মিয়া (৬০), রিয়া মনির মা মোছা. ফাহিমা (৩৭), খালা ঝর্ণা বেগম (২৬) এবং খালাতো ভাইবোন জান্নাতুল (৬) ও মো. জাকারিয়া (৪)। রুবেল মিয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।








