স্টাফ রির্পোটার- পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সপ্তম দিনের অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযান শুরু করেছেন।
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শেখ মাহাবুবুল আলম জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও এক শিশুসহ তিন জন নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে সপ্তম দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধার কর্মীরা। করতোয়া থেকে শুরু করে আত্রাই পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ১২টি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।
নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বোদা উপজেলায় ৪৬ জন, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১৭ জন, আটোয়ারী উপজেলায় ২ জন, পঞ্চগড় সদর উপজেলায় একজন এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ৩ জন। এসব মৃত ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, নারী ৩০ জন এবং শিশু ২১।
নিখোঁজ তিন জন হলেন– দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা গ্রামের মদন চন্দ্রের ছেলে ভুপেন ওরফে পানিয়া, বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের খগেন্দ্রনাথের ছেলে সুরেন এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথের মেয়ে জয়া রানী।
এর আগে গত রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে শতাধিক মানুষ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করে। এ সময় মাঝি নৌকাটি ঘাটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নৌকা ডুবে যায়। নৌকার যাত্রীদের অনেকেই সাঁতরে তীরে ওঠেন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে যোগ দেয় এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করে।








