স্টাফ রিপোর্টার – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২০২৩-২৫ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) সদস্য পদের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া ১৮৯টির মধ্যে ১৬০ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই বিজয় শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি বিশ্বনেতৃত্বের আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
বুধবার সকালে এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘে মানবাধিকার কাউন্সিলের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে (১৬০ ভোট) জয়লাভ করেছে। যা আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব নেতৃত্বের আস্থা শেখ হাসিনার সরকার এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার ট্র্যাক রেকর্ডের ওপর রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সর্বদা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায় বিচারের অগ্রভাগে রয়েছে।
এবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চারটি আসনের বিপরীতে বাংলাদেশসহ ৭টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো হলো – দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান ও বাহরাইন।
মন্ত্রী জানান, নির্বাচনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৬০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। মালদ্বীপ পেয়েছে ১৫৪ ভোট, ভিয়েতনাম পেয়েছে ১৪৫টি ভোট, কিরগিজস্তান পেয়েছে ১২৬টি, দক্ষিণ কোরিয়া পেয়েছে ১২৩ ভোট এবং আফগানিস্তান পেয়েছে ১২ ভোট।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে ৪৭ সদস্যের এই কাউন্সিলে বাংলাদেশ ৫ম বারের মতো নির্বাচিত হলো। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবদানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাউন্সিলের দায়িত্ব পালনে আমাদের দক্ষতারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
নির্বাচনে জয়লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিশেষ করে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৬টি দেশ এ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জাতিসংঘ বিশেষ করে মানবাধিকার কাউন্সিলে আমাদের গঠনমূলক ও নীতিগত উপস্থিতির ফলে আমরা এত বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পেরেছি।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নির্বাচনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। বিপুল ভোটে বাংলাদেশকে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত করার জন্য সদস্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে সবার সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের পর সদস্য দেশগুলোর বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্ব এবং বিশ্ব শান্তির জন্য তার সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। সবার প্রত্যাশা, মানবাধিকার কাউন্সিসলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের আদর্শ বাস্তবায়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।








