,

বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়নি –স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেছেন, খুলনায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। খুলনায় বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে অপ্রীতিকর কোনো কিছু ঘটার তথ্য জানা নেই।

শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনে বিসিএস উইমেনস নেটওয়ার্কের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খুলনায় কেন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, এখনো সঠিক তথ্য আমি জানি না। যতটুকু জানি, বাস মালিকদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। এখন সে কারণেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে কি না তা আমি নিশ্চিত নই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যাদের গ্রেফতার করে সেটা নিয়মিত কাজের অংশ। যাদের নামে ওয়ারেন্ট আছে, যারা ভাঙচুর করে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের কোনো বাধা নেই।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বে সমাদৃত। নারীরা যে যেখানে কাজ করছেন, সবাই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রত্যেক এলাকায় যেখানেই গিয়েছি সেখানেই নারীদের প্রাধান্য দেখেছি। নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় সামনে আসছে।

তিনি বলেন, আমি যেখানে গিয়েছি, সেখানেই দেখেছি নারীর ক্ষমতায়ন। আর এ কারণে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উন্নতি সম্ভব হয়েছে যার দূরদর্শিতায়, তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দাবি ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। যখন শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে দেশে ফিরলেন, তিনি সারাদেশ ঘুরেছেন। সবার সঙ্গে দেখা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হত্যার বিচার করতে সারাদেশের মানুষকে একত্র করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।

বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান।

এদিকে খুলনা নগরীতে যেন অঘোষিত হরতাল চলছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। অনেকটা ফাঁকা রাস্তাঘাট। বন্ধ আছে নৌযান চলাচলও।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হেঁটে, মাইক্রোবাসে, ট্রাকে, মোটরসাইকেলে খুলনা নগরীতে আসছেন। পরে মিলিত হয়ে মিছিল নিয়ে খুলনার ডাকবাংলো চত্বরে গিয়ে যোগ দিচ্ছেন সমাবেশস্থলে।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে পিকচার প্যালেস, ডাকবাংলো, থানা মোড়, ক্লে রোড, মহেন্দ্র দাসের মোড়, স্টেশন রোডসহ আশপাশের এলাকার প্রায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নাশকতা এড়াতে আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সমাবেশ মঞ্চ থেকে পরিবেশন করা হচ্ছে দেশাত্মবোধক ও দলীয় সঙ্গীত। এতে করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নেতাকর্মীরা একটু হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন।

বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে গঠিত উপ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, সমাবেশ স্থলে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে জনতার ঢল নেমেছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, বুধবার খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির জরুরি সভায় পরিবহন দুদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির কর্মকর্তা, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও মালিকদের উপস্থিতিতে সভায় বলা হয়, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, মহেন্দ্র, ইজিবাইক ও বিটিআরসির গাড়িগুলো চলাচল করছে। তাই এসব যান বন্ধের দাবিতে ২১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুদিন মালিক সমিতির সব গাড়ি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের দাবি, বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে তারা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বান করেছেন। এর সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, যাদের ২৫ বছর পুলিশ বাহিনীতে সার্ভিস হয়েছে বা পুলিশ সদরদপ্তর মনে করে তাদের আর প্রয়োজন নেই, শুধু তাদেরকেই অবসর দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের তালিকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা আগেও দেখেছেন যারা পুলিশ সার্ভিসে আর থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকতে পারে। তবে (সে বিষয়ে) আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নিয়মিতভাবেই এমন তালিকা করা হয়ে থাকে। যাদের ২৫ বছর বাহিনীতে সার্ভিস হয়েছে বা পুলিশ সদরদপ্তর মনে করে তাদের আর প্রয়োজন নেই, সেই জন্যই এটা করা হয়ে থাকে।

শিশুদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন মনে করছে এতে ভোগান্তি বাড়বে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী মনে করছে? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য। সরকার মনে করে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলো তখন থেকেই সে এনআইডি প্রাপ্য। যে নম্বরটি তাকে দেওয়া হবে, মৃত্যু পর্যন্ত ওই নম্বরটি তার থাকবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হলে তখন ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যা বলছে, সেটি তাদের নিজস্ব বক্তব্য। সরকার মনে করে এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা উচিত।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ