সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
“আওয়ামীলীগ নেতাদের হুশিয়ারী”

বিএনপির সন্ত্রাসবাদকে রুখে দিতে প্রস্তুত যুবলীগ

মিজানুর রহমান- বিএনপি দুই-একটা সমাবেশ করে দেশের মানুষের মাঝে পুনরায় যে সন্ত্রাসবাদ ছড়াতে চায় তার জবাব দিতে আওয়ামী যুবলীগ প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা। নেতারা বলছেন বিএনপি আন্দোলন সমাবেশের নামে জনগনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যা করে। অগ্নিসংযোগ করে জনগনের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করে। যুবলীগের জনসমাবেশে নেতারা বিএনপির সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে জবাব দিতে নেতা কর্মীরা প্রস্তুত বলে জানান সমাবেশে আগত দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব মহাসমাবেশে নেতারা এ মন্তব্য করেন।

মহাসমাবেশে যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, যারা সমাবেশে লোকের উপস্থিতি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে গেছেন, মনে করেছেন এতেই ক্ষমতায় চলে আসছেন। তারা আজ দেখেন, আপনাদের কথা আর দুই-একটা কর্মসূচিতে সরকার পড়ে যাবে না। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন ফুঁ দিলেই উড়ে যাবে না।

তিনি বলেন, আপনরা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করেছেন। অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। শত শত নারীর সম্ভম আপনার নষ্ট করেছেন। এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই যুব সমাজ ঐক্যবদ্ধ।

যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, পাগলে কি না কয়, ছাগলে কি না খায়? ওরা পাগল, ওরা খুনি। তারেক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, খালেদা জিয়াও তো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তারা আবার ভয় দেখায়। বলে, আওয়ামী লীগ পালাবার পথ পাবে না। আওয়ামী লীগ পালানোর দল না।

সংগঠনটির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ক্লিন হার্ট অপারেশনের নামে শত শত যুবলীগ নেতাকর্মী হত্যা করেছিলেন। আজকে তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাংলাদেশে আতঙ্ক ছড়াতে চান। তাদের যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত এই যুব সমাজ।

এদিকে, শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব মহাসমাবেশে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার উপস্থিতিতে আনন্দে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশস্থল।

এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ওই সমাবেশ। প্রথমে মঞ্চে ওঠেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এমপি। তার গানে মাতে পুরো সমাবেশস্থল। গানে গানে আর পতাকা দোলানের তালে তালে দৃশ্যটি ছিল উপভোগ্য। বিশেষ করে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে ‘তুমি ফিরে এসেছিলে.. এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে আরেক গান- ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা’ গান বেশ উপভোগ করেছেন যুবরা। এসময় সবাই মমতাজের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও এসময় উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুবলীগের প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমানের ক্রমধারা বর্ণনা ও তার সঙ্গে নৃত্যানুষ্ঠান ছিল অসাধারণ।

এশিয়ার বৃহৎ এ যুব সংগঠনের উৎসবমুখর এই আয়োজনে এরইমধ্যে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ যুবক মিলিত হয়েছেন। কেউ লাল সবুজ এবং কেউ হলুদ রঙের টিশার্ট ও ক্যাপ পরে সেজে এসেছেন। মিছিলে মিছিলে ঢাকঢোল পিটিয়ে সোওহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিলিত হয়েছেন তারা। যুব সমাজের আনন্দঘন এই আয়োজনে আনন্দের অংশীদার হতে এরইমধ্যে যোগ দিয়েছেন হালের সেরা চিত্রনায়কদের অন্যতম রিয়াজ ও ফেরদৌস।

১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী। ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এ যুব সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রথিতযশা সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্য দিয়ে যুব সমাজের সংগ্রামী চেতনার ধারা আরও শাণিত ও বেগবান হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ