,
যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের ওপর যে অত্যাচার করেছে বিএনপি, বিএনপির ওপর কোনো প্রতিশোধ নেয়নি আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের ওপর যে অত্যাচার করেছে বিএনপি, বিএনপির ওপর কোনো প্রতিশোধ নেয়নি আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার – বিএনপি আওয়ামী লীগের ওপর যে অত্যাচার করেছে আওয়ামী লীগ তার কোনো প্রতিশোধ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, খুন-গুম-নির্যাতন করেছে তার কোনো প্রতিশোধ আমরা (আওয়ামী লীগ) নেইনি। আওয়ামী লীগ এসব করতে চায় না। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের তৃতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৃহস্পতিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে সম্মেলনের মঞ্চে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা। তিনি সম্মেলনের উদ্বোধনও করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আ.লীগ ক্ষমতায় আসলেই মানুষের উন্নয়ন হয়। তিনি বর্তমান সরকারের নানাবিধ উন্নয়ন কাজের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে প্রশাসন সবক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছে সরকার। বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলাই বিএনপির চরিত্র। হাওয়া ভবন খুলে লুটপাট করতে পারে তারা, বিএনপি লুটপাট ছাড়া দেশকে কিছুই দিতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, তাদের আন্দোলন মানেই মানুষ পুড়িয়ে মারা, বিএনপির আন্দোলন মানেই অগ্নিসন্ত্রাস।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের সময় যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তাদের শাসনামলে নারীদের ওপর জুলুম-অত্যাচার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। যুব মহিলা লীগের সবাইকে অভিনন্দন জানাই যে, ওই চরম অত্যাচারের সময়েও পুলিশ ও বিএনপির গুণ্ডা বাহিনীর নির্যাতনের মুখেও তারা টিকে ছিল। আমরা দেশের উন্নয়নে মনোযোগী। ওদের শাসন মানেই নির্যাতন-হত্যা-অত্যাচার।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই কেবল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। মানুষ তার অধিকার ফিরে পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে তো কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেন নি, তুলতে পারেন নি। তিনশ আসনের মধ্যে বিএনপি কয়টি পেয়েছিল! মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল আর জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ২৭ আসন। সে জন্যই খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হতে পেরেছিলেন।

এ সময় ব্যাংকে টাকা থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুজব ছড়াচ্ছে কেউ-কেউ! ব্যাংকে নাকি টাকা রাখা যাবে না, তারা আসলে চোরদের এজেন্ট কী না সেটা খোঁজ নিতে হবে। কেননা, তাদের গুজবে বিশ্বাস করে মানুষ টাকা তুলে ঘরে রাখছে। সেটা আবার চোর চুরি করছে, কেউ গুজবে বিশ্বাস করবেন না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিডের ধাক্কা না এলে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ঘোষণা করতে পারতাম। এ বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ থামাতে পারবে না। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড থেকে মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত হন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান সভাপতি নাজমা আক্তার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সম্মেলন পরিচালনা করেন।

২০০২ সালের ৬ জুলাই যুব মহিলা লীগ গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে ১০১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিতে বর্তমান সভাপতি নাজমা আক্তার আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল সে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

যুব মহিলা লীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। সে সম্মেলনে নাজমা আক্তার সভাপতি ও অপু উকিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিন বছর পর পর সম্মেলনের কথা থাকলেও ১৩ বছর পর সংগঠনের দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ। ওই সম্মেলনে নাজমা আক্তার ও অপু উকিল পুনর্নিবাচিত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে একটা উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ উপহার দেবেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর মানুষের ভাগ্যকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। বঙ্গবন্ধু নারী মুক্তি, নারী শিক্ষা, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি পাকিস্তানিদের মতো দেশের মধ্যে নারীদের ওপর নির্যাতন, গণধর্ষণ, হত্যা চালিয়েছিল। একদিকে পুলিশ ও অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যাচার করেছে। আওয়ামী লীগ এসব করতে চায় না। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আজ বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ শুরু করলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতা এসে দেশের মধ্যে তাণ্ডব শুরু করে ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এমনকি সেই সময় দক্ষিণ অঞ্চলে কোনো সাংবাদিকও প্রবেশ করতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশকে আরও পিছিয়ে দিয়ে শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলে, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কথা বলে না। ওই সময় তারা মাত্র ৩০টা সিট পেয়েছিল আর জাতীয় পার্টি ২৭টা সিট পায়। বিএনপিকে এখন জিজ্ঞাসা করা উচিত কিসের বলে তারা লাফালাফি করে। জাতীয় পার্টি থেকে তারা কম সিট পায়, তারা আবার কিসের বলে এত কথা বলে লাফালাফি করে। ২০১৪ সালে বিএনপি দেশের অসংখ্য মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারছে। এজন্য দেশের মানুষ বিএনপিকে বারবার প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্রের দল নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় সেটা মানুষ জানে। এজন্য বিএনপিকে মানুষ ভোট দেয় না।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া মাত্র দুইটা পরীক্ষায় পাস করেছিল, একটা হলো উর্দু আরেকটা হলো গণিত। কারণ, খালেদা জিয়ার প্রিয় বিষয় হলো উর্দু। জিয়াউর রহমান মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাস। তারেক জিয়া যে কি পাস তা তিনিও জানেন না। বিএনপি ক্ষমতা আসলে জনগণের নয় বিএনপির উন্নয়ন হয়। হাওয়া ভবন নির্মাণ করে খাওয়া ভবন শুরু করে।

তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে কোনো মানুষ কর্মহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। দেশের মানুষের যাতে কোনো কষ্ট না হয় সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃণমূল পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনা হবে, এভাবে কাজ চলছে। তারুণ্য শক্তি দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। দক্ষিণ অঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল, এখন আর নেই। পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না। ইনশাল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ