বাসস – পাকিস্তানী ব্যাটার ইফতেখার আহমেদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নবম আসরে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল সাকিব-মাহমুদুল্লাহর ফরচুন বরিশাল। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বরিশাল ২৬ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জাসর্কে। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে পেসার রবিউল হক ও পাকিস্তানী ব্যাটার শোয়েব মালিকের নৈপুণ্যে জয়ের ধারায় ফিরলো রংপুর রাইডার্স। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে রংপুর ৪ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্সকে।
শিরোনাম
- ভারতীয় কোস্ট গার্ডের ২টি জাহাজ ৬ দিনের সফরে চট্টগ্রামে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ বিশ্বের সাথে : তথ্যমন্ত্রী সাংহাই শহরের মতো চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ : ওবায়দুল কাদের আতফুল হাই শিবলী পরোপকারী মানুষ ছিলেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সমাবেশে বিএনপি গ্রেনেড-বোমা মেরেছে, আমরা তাদের নিরাপত্তা দেই : তথ্যমন্ত্রী
ইফতেখারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় জয় সাকিবের বরিশালের
বাসস
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:০৩

চট্টগ্রাম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ (বাসস) : পাকিস্তানী ব্যাটার ইফতেখার আহমেদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নবম আসরে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল সাকিব-মাহমুদুল্লাহর ফরচুন বরিশাল।
আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বরিশাল ২৬ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জাসর্কে। তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেলো চট্টগ্রাম। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০২ রান করে বরিশাল। ২৬ বলে অপরাজিত ৫৭ রান করেন ইফতেখার। জবাবে জিয়াউর রহমানের ২৫ বলে অনবদ্য ৪৭ রানে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৬ রান করে ম্যাচ হারে চট্টগ্রাম।
বিপিএল চট্টগ্রামের পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ স্থানীয় জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক শুভাগত হোম।
ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেয়ে এনামুল হক বিজয়ের সাথে বরিশালের ইনিংস শুরু করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। চট্টগ্রামের পেসার আবু জায়েদের করা প্রথম ওভারেই ৩টি চার মারেন মিরাজ। ওভারে ১৫ রান পায় বরিশাল।
স্পিনার তাইজুলের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারলেও, শেষ ডেলিভারিতে ম্লগ সুইপ করে জিয়াউর রহমানকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মিরাজ। তবে তার আগে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২ বল খেলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দলীয় ৩৩ রানে মিরাজের বিদায়ে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। চট্টগ্রামের বাঁ-হাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির মুখোমুখি হয়ে প্রথম দুই বলেই দু’টি চার মারেন সাকিব। পরের ডেলিভারিতেই সাকিবের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন মৃত্যুঞ্জয়। মৃত্যু ঘটে সাকিবের ৩ বলে ৮ রানের ইনিংসের।
বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়ে ব্যক্তিগত ৩০ রানে আউট হন বিজয়। শ্রীলংকার স্পিনার বিজয়কান্ত বিয়াস্কান্তর বলে আউট হবার আগে ২১ বলে ৫টি চার মারেন তিনি।
অষ্টম ওভারে দলীয় ৭১ রানে বিজয়ের আউটের পর বরিশালের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দু’জনই মারমুখী ব্যাটিং করে ১১তম ওভারেই বরিশালের স্কোর রানে ১শ পৌঁছে দেন।
১৩তম ওভারে ২৫ রান করা মাহমুদুল্লাহকে শিকার করে চট্টগ্রামকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন জিয়াউর রহমান। ১৭ বলে ২টি করে চার-ছক্কা মারা মাহমুদুল্লাহ চতুর্থ উইকেটে জাদরানের সাথে ৩১ বলে ৪৯ রান যোগ করেন।
হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে আবু জায়েদের প্রথম শিকার হয়ে ৪৮ রানে থামেন জাদরান। ৩৩ বল খেলে ৪টি চার ও ৩টি ছয় মারেন তিনি।
১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা জাগান আবু জায়েদ। শেষ পর্যন্ত হ্যাট্টিক করতে পারেননি তিনি। তবে ঐ ওভারের শেষ তিন বলে ছক্কা মারেন বরিশালের পাকিস্তানী ব্যাটার ইফতেখার আহমেদ।
ইনিংসের সব শেষ ওভারেও ২টি চার ও ১টি ছক্কা হাকিয়ে ২৫ বলে টি-টোয়েন্টিতে ২৩তম হাফ-সেঞ্চুরি পুর্ন করেন ইফতেখার। শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০২ রানের সংগ্রহ পায় বরিশাল। চট্টগ্রামের আবু জায়েদ ৪৯ রানে ৩ উইকেট নেন।
২০৩ রানের বড় টার্গেটে শুরুটা বেশ ভালই করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার পাকিস্তানের উসমান খান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ও’দাউদ । ৫ ওভারে ৪৮ রান তুলেন তারা। ১৯ বলে ৩৬ রান করে বরিশালের পেসার রবিউল ইসলাম রবির বলে আউট হন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা উসমান। ৩টি করে চার-ছয় মারেন তিনি।
উসমানের আউটের পর রানের গতি কমে যায় চট্টগ্রামের। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার উন্মুখ চাঁদকে নিয়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেননি ও’দাউদ। ৩৫ বলে ৩৩ রান তুলেন তারা। ২৯ বলে ২৯ রান করা ও’দাউদকে শিকার করে বরিশালকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন সাকিব।
ধীরলয়ে খেলা চাঁদ আফগানিস্তানী করিম জানাতের শিকার হওয়ার আগে ২১ বলে ১৬ রান করেন । চাঁেদর বিদায়ের পর শেষ ৭ ওভারে জিততে ১১০ রান দরকার পড়ে চট্টগ্রামের। জিয়াউর রহমানের সাথে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। দলকে ৩০ বলে ৪২ রান এনে দিলেও জয়ের পথটা কঠিন ছিল চট্ট্রগামের । ৪টি চারে ২১ বলে ২৮ রান করে আফিফ যখন ফিরেন তখন চট্টগ্রামের জিততে ১৭ বলে ৭৩ দরকার পড়ে।
এরপর চট্টগ্রামের ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন জিয়া। পেসার খালেদ আহমেদের করা ১৮তম ওভারে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৯ রান, করিমের করা ১৯তম ওভারে ১টি ছয় ও ২টি চারে ১৮ রান তুলেন জিয়া। শেষ ওভারে জিততে ৩৬ রান দরকার পড়ে চট্টগ্রামের। শ্রীলংকার চাতুরাঙ্গা ডি সিলভার শেষ ওভারে শুভাগতর ১টি ছক্কায় মাত্র ৯ রান পায় চট্টগ্রাম। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৭৬ রান করে ম্যাচ হারে চট্টগ্রাম। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২৫ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিয়া। ৬ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন শুভাগত। বরিশালের সাকিব-খালেদ-কামরুল ও করিম ১টি করে উইকেট নেন।
এদিকে খুলনা টাইগার্স এর বিপক্ষে বল হাতে রবিউল ৪ উইকেট শিকারের পর মালিক ৩৬ বলে ৪৪ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছিলো রংপুর। অন্য দিকে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হারলো খুলনা।
বিপিএল চট্টগ্রামের পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে স্থানীয় জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারে ১৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় খুলনা। ওপেনার তামিম ইকবাল ১ ও পাকিস্তানের শারজিল খান ১২ রান করে আফগানিস্তানের পেসার আজমতুল্লাহ ওমরজাইর শিকার হন। আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানকে ৪ রানে থামিয়ে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান।
শুরুতে বিপদে পড়া খুলনাকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানের আজম খান ও অধিনায়ক ইয়াসির আলি। হাফ-সেঞ্চুরির জুটিও গড়েন তারা। ১২তম ওভারে আজম-ইয়াসির জুটি ভাঙেন রবিউল। ২টি ছক্কায় ২২ বলে ২৫ রান করেন ইয়াসির।
ইয়াসির ফেরার পর বিপদ বাড়ে খুলনার। ৯১ রানে খুলনার সপ্তম উইকেটের পতন ঘটান রবিউল-রাকিবুল। সাব্বির রহমান ১ ও পাকিস্তানের আমাদ বাটকে ৪ রানে ফেরান রবিউল। উইকেটে সেট ব্যাটার আজমকে শিকার করেন রাকিবুল। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩ বলে ৩৪ রান করেন আজম।
১শর নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়া খুলনাকে শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক সংগ্রহ এনে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও নাহিদুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে ১৮ বলে ৩২ রান যোগ করেন তারা। তারপরও ২ বল বাকী থাকতে ১৩০ রানে শেষ হয় খুলনার ইনিংস। সাইফুদ্দিন ১৮ বলে ২২ ও নাহিদুল ৮ বলে ১৫ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ক্যারিয়ার সেরা ৪ ওভারে ২২ রানে ৪ উইকেট নেন রবিউল। এছাড়া হাসান-ওমরজাই ও রাকিবুল ২টি করে উইকেট নেন।
১৩১ রানের টার্গেটে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরেরও। ৫ ওভারে ৩১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার রনি তালুকদারকে ১ রানে শিকার করেন সাইফুদ্দিন। পঞ্চম ওভারে দুই উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ওভারের দ্বিতীয় বলে তিন নম্বরে নামা মাহেদি হাসানকে ১৪ রানে ও শেষ ডেলিভারিতে আরেক ওপেনার পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে ১০ রানে শিকার করেন রিয়াজ।
উইকেট পতন ঠেকিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ নাইম ও পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। ২৭ বলে ৩০ রান যোগ হবার পর এই জুটি ভাঙেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। ৩টি চারে ২২ বলে ২১ রান করে আউট হন নাইম। এতে ১০ ওভার শেষে রংপুরের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৮ রান । অর্থাৎ ম্যাচ জিতে শেষ ১০ ওভারে ৭৩ রান দরকার পড়ে তাদের।
পরের ৬ ওভারে দলকে ৩২ রান এনে দেন মালিক ও নুরুল। ধীরলয়ে খেলতে থাকা নুরুলকে ১৬তম ওভারের শেষ বলে ফেরান নাসুম। মাত্র ১টি চারে ১৮ বলে ১০ রান করেন নুরুল।
নুরুলের ফেরার পর শেষ ১৮ বলে ৩৫ রান দরকার পড়ে রংপুরের। বাটের করা ১৮তম ওভারের শেষ তিন বলে সাত নম্বরে নামা শামিম হোসেন তিনটি চার মারলে ১৪ রান পায় রংপুর। সাইফুদ্দিনের করা ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে ১টি করে চার-ছক্কা মেরে পঞ্চম বলে আউট হন মালিক। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৪ রান করেন মালিক। ওভার থেকে ১৪ রান পায় রংপুর।
ওয়াহাবের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ১টি ছক্কায় তৃতীয় বলে রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন আজমতুল্লাহ। শামিম ১০ বলে ১৬ ও আজমতুল্লাহ ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। খুলনার সাইফুদ্দিন-ওয়াহাব ও নাসুম ২টি করে উইকেট নেন।








