,

আমাদের উদ্যোগের ফলে অনেক অন্ধ মানুষ চোখের আলো ফিরে পেয়েছে – প্রধানমন্ত্রী

আমাদের উদ্যোগের ফলে অনেক অন্ধ মানুষের চোখের আলো ফিরে পেয়েছে - প্রধানমন্ত্রী

৪ বিভাগের ১৫ জেলায় ৪৫ কমিউনিটি ভিশন সেন্টার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার – প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের উদ্যোগের ফলে এখন অনেক অন্ধ মানুষের চোখের আলো ফিরে এসেছে। বুধবার দেশের ৪ বিভাগের ১৫ জেলায় ৪৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তিনি ‘আই ভিশন সেন্টারগুলো’ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, অন্যান্য চিকিৎসা সেবার সঙ্গে অবশ্যই চোখের চিকিৎসাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চাই দেশের মানুষ যেন সঠিক চিকিৎসা সেবা পান। এর জন্য চোখের চিকিৎসা ফ্রি করে দিচ্ছি। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চোখের সব ধরনের সমস্যায় সেবা নিতে পারবেন রোগীরা। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এর আগে ৯০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার, এখন তৃতীয় ধাপে ৪৫টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকজন যেন সহজে হাসপাতালে আসতে পারেন সেজন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় দেশের মানুষ বিভিন্ন রোগের যথাযথ চিকিৎসা পেত না, এখন পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই হাসপাতালগুলোতে রোগীর সেবা আরও যেন বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে সবার সহায়তা কামনা করেন সরকারপ্রধান।

উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপনে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে এক্ষেত্রে ডা. মোদাচ্ছের আলী, ডা. দ্বীন মোহাম্মদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এর সঙ্গে জড়িত সব ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানান। এসময় শেখ হাসিনা জানান, ২০০৯ সালে দেশের হাসপাতালগুলোতে বেড ছিল ৩৮ হাজার, এটি ৬৭ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শুরু করতে পারিনি। তবে শিগগিরই করে ফেলব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের ১৩টি জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৪৫টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের উদ্বোধন করেছেন। এর ফলে মোট কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের সংখ্যা ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে এবং তৃণমূলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ভোলার চরফ্যাশন, বরগুনার আমতলী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের পেকুয়ার কমিউনিটি ভিশন কেন্দ্রগুলো ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিল এবং সেখানে উপকারভোগীদের সঙ্গে পরে তিনি মত বিনিময়ও করেন। নতুন চালু হওয়া কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০টি, রাজশাহী বিভাগে ৪টি এবং খুলনা বিভাগে ১টি খোলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এর আগে ৯০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার খুলেছিলেন, যা বিনামূল্যে আধুনিক ও উন্নত চোখের চিকিৎসা প্রদান করে দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেল হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি আই ভিশন সেন্টার থেকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। কমিউনিটি ভিশন সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৭ জন চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২ লাখ ১০ হাজার ৮৬৮ জন বিনামূল্যে চশমা পেয়েছেন। দেশের সাত বিভাগের ৩৯ জেলার ১৩৫ উপজেলায় সমন্বিত চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ উন্নত চক্ষু চিকিৎসা সেবার আওতায় আসবে।

আওয়ামী লীগের সমর্থন বাড়বে বলে গ্রাম পর্যায়ে চালু করা কমিউনিটি হাসপাতাল বিএনপি বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগেই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইনে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে; কারণ দেশে সবক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলাতেই কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে প্রান্তিক মানুষের ভালো চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদসহ অনেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ