,

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : তিন ফসলি জমিতে কোন প্রকল্প নয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : তিন ফসলি জমিতে কোন প্রকল্প নয়

স্টাফ রিপোর্টার – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, তিন ফসল ফলে এমন জমিতে কোন প্রকল্প নয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এ নির্দেশনা সবাইকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেবো। তিন ফসলি জমিতে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনও ধরনের প্রকল্পই করা যাবে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরেও একটা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি হলো-লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, স্থাপনা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বা আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিল্ডিং, বিভিন্ন ভবন তৈরি করার প্রস্তাব বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুস্পস্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন-কোনো তিন ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। কোনো তিন ফসলি জমিতে কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না, এটি সংরক্ষণ করতে হবে। এটি সুস্পস্টভাবে বলেছেন। এটা আমরা এখন নিয়মিতভাবে মনিটর করবো।

সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্র কি এর মধ্যে পড়বে? জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো ক্ষেত্রেই কোনো প্রকল্প হতে পারবে না। সরকারি-বেসরকারি সব লেভেলে। কোনো তিন ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। প্রকল্প নেওয়ার সময় যাচাই করে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছেও তা পাঠানো হবে।

সভায় ভেজাল এবং নকল ওষুধ তৈরি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘ঔষধ আইন ২০২২’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে ‘ঔষধ’-এর সঙ্গে ‘কসমেটিকস’ শব্দটিও যোগ করা হয়েছে। আইনটি এখন থেকে ‘ঔষধ এবং কসমেটিকস আইন-২০২২’ নামে হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, নতুন এই আইনে কোনও ওষুধ ক্ষতিকারক হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বাজার থেকে বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। আর এই আইন অনুযায়ী ওষুধের উৎপাদন থেকে সব ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, এখন থেকে নতুন করে প্রসাধনী উৎপাদন করতে হলে সরকারের লাইসেন্স বা অনুমোদন নিতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন ওষুধ আইনে ৩০টি অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। যা আগের আইনে ছিল না।

নতুন আইনে ভেজাল এবং নকল ওষুধ তৈরি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর নিবন্ধন ছাড়া কারখানা থেকে ওষুধ উৎপাদন করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। প্রস্তাবিত এই আইনে কিছু ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আইনটিতে এন্টিবায়োটিক প্রসঙ্গও রয়েছে। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। কোনও দোকান থেকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা হলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত আইনে মেডিক্যাল ডিভাইস ব্যবহার করার বিষয়েও নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি জানান, প্রসাধনী উৎপাদন এবং বিতরণও এই আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে। ওষুধ প্রসাধন অধিদফতরের এর তদারকি করবে।

এছাড়াও বৈঠকে ‘কপিরাইট আইন, ২০২২’ এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে প্রতিবছর ১৬ জানুয়ারিকে ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস‘ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত এ বিষয়ে পরিপত্রের ‘খ‘ ক্রমিক তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ