স্টাফ রিপোর্টার – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু মানুষের দুষ্কর্মের জন্য ইসলাম ধর্ম কলুষিত হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে শান্তির এ ধর্মকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। অথচ সবচেয়ে শান্তির ধর্ম হলো ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি তৃতীয় ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, পুরো পরিবারকে নিঃশেষ করার পর আমার ওপরও বারবার হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। আমরা দুইজন বেঁচে গিয়েছি বিদেশে ছিলাম বলে, কিন্তু ৮১ সালে দেশে ফেরার পর কতবার আমি, কখনও বোমা ফাটা, কখনও গ্রেনেড হামলা, নানাভাবে আমার ওপর আক্রমণ হয়েছে। বারবার আমি বেঁচে গিয়েছি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কেননা, কিছু নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে প্রত্যেককে দুনিয়াতে পাঠান আল্লাহ। আমার কখনও মৃত্যুভয় হয়নি। কারণ, সুনির্দিষ্ট কাজের লক্ষ্যপূরণ করতে চাই আমি। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে, সে কাজগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমাকে রক্ষা করবেন। বিচারের ভার কোনো মানুষকে দেননি আল্লাহ। ইসলাম ধর্ম মানে না বলে কাউকে হত্যা করতে হবে – এ কথা ইসলামে বলা নেই।
আল্লাহর ওপর বিশ্বাসকে জীবনে চলার পাথেয় করে নিয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি বাংলাদেশে এসেছিলাম। সেই বাংলাদেশে, যেই বাংলাদেশে আমার বাবা, মা, ভাই, বোনকে তারা হত্যা করেছে। তারা লাশ ফেলে রেখেছিল, দাফন-কাফনটা পর্যন্ত করতে দেয়নি। জানাজাটাও করতে দেয়নি। তারাই কিন্তু ক্ষমতায় ছিল এবং তারা আত্মস্বীকৃত।
তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর আমার বিশ্বাস আছে। সেই বাংলাদেশে আমি ফিরে আসি। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে, চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়েই আমি চলেছি শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, কিছু কাজ আমাকে দেবেন। সেই কাজগুলো আমাকে সম্পন্ন করতে হবে। সে জন্য আমার কখনও কোনো মৃত্যুভয় হয়নি। কারণ আমি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখেছি। সেইভাবেই আমি কিন্তু চলার চেষ্টা করেছি এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কাজেই আমি এটা বলব যে, যারা সত্যিকার ইসলাম বিশ্বাস করে, তাদের অন্য ধর্মের প্রতিও সহনশীল হতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে আমরা চাই আমাদের সকল ধর্মের সমান অধিকার। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। শেষ বিচার তো আল্লাহ করবেন। বিচারের ভার আল্লাহ আমাদেরকে, মানুষকে দেয় নাই; কোনো মানুষকে দেননি। এ কথাটা সকলকে মনে রাখতে হবে। কেউই বিচার করতে যাবেন না যে, এই ধর্ম করে না বলে তাকে খুন করে ফেলতে হবে। এটা ইসলামের শিক্ষা না। এটা আমি বিশ্বাস করি।
কিছু মানুষ ইসলামের দুর্নাম করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যারা সত্যিকার আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশ মানে, তারাই সেই বিশ্বাস করে; বরং এই খুনখারাবি করতে যেয়ে আমাদের ধর্মের অসম্মান করা হচ্ছে বিশ্বে। আমাদের ধর্মকেই একটা দুর্নাম দেয়া হচ্ছে। এটাই সব থেকে আমাদের জন্য দুঃখজনক। যে ধর্মটা সব থেকে শান্তির ধর্ম, সেই ধর্মের নামেই এই কুৎসা দেয়া হচ্ছে কিছু লোকের জন্য। কেন এটা আমরা মেনে নেব?
আল্লাহর নির্দেশ ও মহানবীর (সা.) পদাঙ্ক অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, সহনশীলতায় বিশ্বাস করি, মানবজাতির কল্যাণে বিশ্বাস করি। আল্লাহ আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে, আমাদের পবিত্র কোরআনে যে নির্দেশ আছে, নবী করিম (সা.) যে কথা বলেছেন, তার বিদায় হজে যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটা মেনেই সকলকে চলতে হবে; সহনশীল থাকতে হবে। সেটাই আমি বিশ্বাস করি।
দশম হিজরিতে মহানবী (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অন্যায়ভাবে রক্তপাত না করা, মানুষে মানুষে বৈষম্য বন্ধ করা, স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইনসাফভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা, ধর্মের বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করা।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল। কিন্তু সৌদি অর্থায়নে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মিনার নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম নিয়ে যাতে কেউ বাড়াবাড়ি না করে এবং সত্যিকারের ইসলামের শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছাতেই প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। ইসলামের মূল্যবোধের সঠিক প্রসার চায় সরকার। এ জন্য জেলা পর্যায়ে চারতলা আর উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এসব মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।
আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান কৃচ্ছ্রতা সাধনের সময় হলেও দেশের কিছু ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয় অতি মুনাফার লোভে। খাদ্যে ভেজাল, মজুতদারি, কালোবাজারি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অযথা মানুষকে কষ্ট দেয়া যে গর্হিত কাজ। এ বিষয়টি মসজিদে প্রচার করতে হবে মাওলানাদের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে যেতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরবে মানুষ, এটা চাই না আমরা। বৈধপথে বিদেশে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে রেখেছে বর্তমান সরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন এবং জনগণের সেবা করাটাই তিনি সব থেকে বড় কাজ বলে গ্রহণ করেছিলেন। বাঙালি জাতিকে ক্ষুধা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নত জীবন তিনি দিতে চেয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মানুষ যাতে অল্প খরচে হজ ব্রত পালন করতে পারে তাই তিনি ‘হিজবুল বাহার’ নামে জাহাজ ক্রয় করে হজযাত্রীদের পাঠানো শুরু করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭০ সালে নির্বাচনী ভাষণে তিনি বলেছিলেন, আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হজরত নবী করিম (সা.) এর ইসলাম, যে ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। আমরা সেই নীতিটাই মেনে চলি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ৯৬ সালে সরকারে আসার পরে আমরা কিন্তু ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো জেলায় অফিস ছিল না, যারা কর্মরত ছিল তারা রাজস্ব খাতে ছিল না। সেই সময় প্রায় ৩৪টি জেলায় অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য সুন্দর বিল্ডিং আওয়ামী লীগ সরকারই করে দিয়েছে। বায়তুল মুকাররম মসজিদ সম্প্রসারণ, মিনার তৈরির কাজ আমরা শুরু করেছিলাম। এই কাজে সৌদি বাদশা আমাদের কিছু অনুদান দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, কাজটা সম্পন্ন হওয়ার আগেই ২০০১-এ আমরা ক্ষমতা থেকে চলে যাই, তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেই কাজ বন্ধ করে দেয়। আল্লাহর রহমতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগকে, আমরা ২০০৯ সাল থেকে সেই কাজ আবার শুরু করি। আজ বায়তুল মুকাররম মসজিদে আরও অধিক সংখ্যক মানুষ নামাজ পড়তে পারে।
আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে ধর্মীয় শিক্ষা বা মাদ্রাসা শিক্ষার যথেষ্ট উন্নতি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৪ বছর ধরে ইসলামের খেদমতে যেসব পদক্ষেপ আমরা নিয়েছে; ঢাকায় আমরা ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি’র স্বীকৃতি দিয়েছি। আমরা আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কোরআনের ডিজিটাল ভার্সন তৈরি করেছি। আমরা জাতীয় শিক্ষা নীতিতে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম আওয়ামী লীগ শুরু করেছে। ধর্মীয় শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত করেছি।
ইমাম-খতিবদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জুমার খুতবায় এই ধরনের কাজ যে গর্হীত তা মানুষকে বলা উচিত। তাহলে মানুষের অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা নিশ্চয়ই কমবে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালের আগৈলঝাড়া, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মডেল মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইমাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নিজস্ব অর্থায়নে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে ৫০টি ও চলতি বছরে ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনটি ধাপে এখন পর্যন্ত মোট ১৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা। বাকি মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজও শেষের দিকে।
সরকারি অর্থায়নে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। শুধু নামাজ আদায় নয়, এসব মসজিদ হবে গবেষণা ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের আলাদা ওজু এবং নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মরদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া ইমাম-মোয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। মডেল মসজিদগুলোতে দ্বীনি দাওয়াত কার্যক্রম ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মডেল মসজিদগুলোতে দ্বীনি দাওয়াত কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিকব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৫৬০টি মডেল মসজিদে সারাদেশে প্রতিদিন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
লাইব্রেরি সুবিধার আওতায় প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক একসঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামিক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সবসময় দোয়া, মোনাজাতসহ তসবিহ পড়তে পারবেন।
মসজিদগুলো থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। আরও থাকবে- ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতিবছর এক লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। দুই হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র হজ পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে ৪ তলা, উপজেলার জন্য ৩ তলা ও উপকূলীয় এলাকায় ৪ তলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নিচ তলা ফাঁকা থাকবে। উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ও ধর্ম সচিব কাজী এনামুল হাসান। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, সহনশীলতায় বিশ্বাস করি, মানবজাতির কল্যাণে বিশ্বাস করি। আল্লাহ আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে, আমাদের পবিত্র কোরআনে যে নির্দেশ আছে, নবী করিম (সা.) যে কথা বলেছেন, তার বিদায় হজে যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটা মেনেই সকলকে চলতে হবে; সহনশীল থাকতে হবে। সেটাই আমি বিশ্বাস করি।








