মিথুন আশরাফ – বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঈদের আগে, রোজার সময় ব্যবসায়ীদের কষ্ট, তাদের কান্না সহ্য করা যায় না। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সবচেয়ে কষ্ট লাগে এখানে একবার ১৯৯৫ সালে আগুন লাগে, এরপর ২০১৮ সালে আবার আগুন লেগেছিল। তারপর এখানে আমরা একটা সুপরিকল্পিত মার্কেট করার প্রকল্প নিয়েছিলাম; তখন বেশ কিছু লোক বাধা দেয়। শুধু বাধা দেয়নি, একটা রিটও করে। হাইকোর্ট এটিকে স্থগিত করে দেন।
বুধবার গণভবনে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণ পরিশোধের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চেক গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকার একটি চেক গ্রহণ করেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ চেক তুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা কথা এখানে বলতে চাই, সরকার গঠনের পর থেকে লক্ষ করেছি, সবার মধ্যে একটা ধারণা ছিল কোনো না কোনোভাবে বা কারও কাছ থেকে সাহায্য না পেলে এক কদমও এগুতে পারব না। এ ধরনের ধারণা নিয়েই কিন্তু সবাই চলত। এ জিনিসটা কিন্তু খুব খারাপ লাগতো আমার কাছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি; মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি; একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদার বোধ থাকার কথা, সেখানেই বড় একটা ঘাটতি লক্ষ করতাম। সে কারণে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে যেদিন করতে পারব, সেদিন করব, তাছাড়া নয়। এভাবে কেউ (একটা সংস্থা) আমাদের অপমান করবে আর আমরা সেটা সহে নেব, এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে পেরেছে যে, আমরাও পারি। এটা আমাদের গর্ব, সক্ষমতা ও অহংকারের প্রতীক হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। বঙ্গবাজার থেকে আশপাশের আরও চারটি মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট কাজ করে। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি-বিমান-নৌ ও সেনাবাহিনী। তবে তাদের পানি সংকটে পড়তে হয়। পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে পানি নেওয়া হয়। দীর্ঘ পাইপে পানি নেওয়ার কারণে চাপ না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটেছিল। অন্যদিকে হাতিরঝিল থেকে পানি নেয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। কয়েক দফায় হেলিকপ্টারে করে হাতিরঝিল থেকে পানি নেওয়া হয়েছিল।
বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পানি ছিটানো অব্যহত রাখে ফায়ার সার্ভিস। যদিও মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের খবর জানানো হয়। তবে বুধবার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছেন, যেহেতু ভেতরে কাপড়ের গোডাউন রয়েছে, সেহেতু সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে পানি ছেটানো হচ্ছে।
দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া মার্কেটে বুধবারও কোথাও কোথাও আগুন জ্বলছে। একাধিক স্থানে উঠে ধোঁয়া। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করে। জীবনের শেষ সম্বল হারানো হাজারো ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে তা দেখেন। আর স্মৃতিচারণ করেন।








