স্টাফ রিপোর্টার- বিশ্বব্যাংকের শীর্ষপদে বসছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অজয় বাঙ্গা। বিশ্বব্যাংকের ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ গত বুধবার সংস্থার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারতীয়-আমেরিকান অজয়কে নির্বাচিত করেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
গত ফেব্রুয়ায়িতে অজয়কে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষপদের জন্য মনোনীত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত বুধবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র দিল সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ। এই প্রথম কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ পেলেন। এর আগে ‘জেনারেল আটলান্টিক’ নামে একটি শেয়ার লেনদেনকারী সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন অজয়। অতীতে মাস্টারকার্ডের সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৬ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল তাকে।
সাধারণত বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ পদাধিকারী নির্বাচন করে যুক্তরাষ্ট্র। আইএমএফের ক্ষেত্রে তা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থসচিব জ্যানেট ইয়েলেন দাবি করেছিলেন, বিশ্বব্যাংকের শীর্ষপদে অজয়ই যোগ্যতম প্রার্থী। বিশ্বব্যাংকের বৃহত্তম অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভোটাধিকার ১৬.৩৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করেন।
অজয় বাঙ্গাকে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পর তার সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘ইতিহাসের এই ক্রান্তিকালে বিশ্বব্যাংককে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য মানুষ অজয় বাঙ্গা। সরকারি-বেসরকারি সম্পদ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বাঙ্গার প্রভূত অভিজ্ঞতা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ এ সময়ের অন্যান্য গুরুতর সমস্যা নিরসনে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’
৬৩ বছর বয়সী অজয়ের জন্ম ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে। দিল্লিতে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের অর্থনীতির স্নাতক। পরে আমদাবাদে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ করেন। ‘নেসলে ইন্ডিয়ার হাত ধরে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল তার। এরপর কাজ করেন সিটি ব্যাংকেও। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন অজয়। সেখানে ‘পেপসিকো’ সংস্থায় যোগ দেন। ১৩ বছর ওই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। সিইও-সহ সংস্থার একাধিক পদে দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০৯ সালে মাস্টারকার্ডের প্রেসিডেন্ট এবং চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অজয়। পরে ওই সংস্থার সিইও হন। তারই নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে মাস্টারকার্ডের ব্যাপ্তি ঘটে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল’, ‘ইউএস-ইন্ডিয়া সিইও ফোরাম’-এর মতো অলাভজনক সংস্থারও সদস্য তিনি।








