স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ যেসব প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শ্রেণী এখনও আছেন, তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনাসহ যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিচার সবার আগে চাইছে দলটি। বুধবার সকালে আলাদা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
ছাত্র-জনতার গণঅভূত্থান দমনে চালানো হয় বেপরোয়া হামলা-গুলি। তারপরও ২৩ দিনের আন্দোলনে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। তবে এতে দিতে হয় শিশুসহ নানা বয়সীদের আত্মহুতি।
সেই হতাহতদের পরিবারকে অর্থসহায়তা দিচ্ছে বিএনপি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এ অনুদান তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী। এসময় তিনি বলেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ যে হত্যা-নির্যাতন চালিয়েছে তা নজিরবিহীন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিবেন। কী করে ক্ষমা করে দিবেন। আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী, যারা অপরাধ করেনি তাদের কথা বাদ দিলাম। তাদের প্রতি আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই, জনগণের কোনো ক্ষোভ নাই। কিন্তু যে মহিলা হেলিকপ্টারে উঠার সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে, আইজিকে বলেছেন, দেখ তোমরা আন্দোলন দমন করতে পার কিনা। ক্ষমতার জন্য, লোভের জন্য, রাষ্ট্রকে গ্রাস করার জন্য নিজ দেশের আলোক পিয়াসী শিশুদের হত্যা এবং রক্ত দেখে আনন্দিত হোন সে কি কাঠগড়ায় আসবে না? তাঁর কি বিচার হবে না?’
এর আগে নয়াপল্টনের অফিসে বিএনপির ত্রাণ তহবিলে সহায়তা দিতে আসেন বিএনপি নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। এসময় দুর্গতদের পাশে থাকার কথা আবারও জানিয়ে দলটির নেতারা বলেন, দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হলেও তাদের সহযোগীরা এখনও তৎপর আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আজও অব্দি নিলজ্জের মতো বসে আছে। জনরোষ থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আর দুদকের যে সমস্ত কমিশনাররা বসে আছে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে। আমি এই সরকারকে বলবো, নির্বাচন কমিশন-দুদক পুর্নগঠন করা অতিব জরুরি।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার ফিরবে বলেও জানান দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।








