ঢাকা শহরের নাজুক পরিস্থিতির জন্য মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি নগর সংলাপে তারা বলেন, ঢাকার জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ মানুষের উপযোগী করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বক্তারা জানান, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকাকে আবার বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। এক সময়ের প্রাকৃতিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শহরটি এখন বায়ু, শব্দ ও শীষা দূষণসহ নানা সমস্যায় নিমজ্জিত।
“সমস্যার নগরী ঢাকা : সমাধান কোন পথে?” শীর্ষক এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে, যার আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম। অনুষ্ঠানে ফোরামের প্রকাশনা ‘ঢাকাই’ ম্যাগাজিন এবং হেলিমুল আলম বিপ্লবের লেখা ঢাকার খাল নিয়ে ইংরেজি বই “Dhaka’s Canals on Their Dying Breath” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
প্রধান অতিথি রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাকাকে একটি একক ছাতার নিচে না আনলে উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো ফলপ্রসূ হবে না। শহরের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিষেবার সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে নেওয়া দরকার। তিনি জানান, অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। নতুন প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা না থাকলেও দখলমুক্ত করা প্লটগুলোতে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সাবেক সভাপতি মো. ফজলে রেজা সুমন, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, ক্যাপস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান, স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, আর কতদিন আমরা এই অপরিকল্পিত নগরের সমস্যাগুলো নিয়ে আমাদের সন্তানদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবো? আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়ায় বহু মানুষ ঘুমাতে পারে না। যানবাহনের কারণে শহরের ৮০% শব্দ দূষণ হয়। এখন এই শহর তাপের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বক্তারা বলেন, যদি এই সমস্যার সমাধান না করা যায়, তাহলে উন্নয়নের সূচকে ঢাকার অবস্থান তলানিতে থাকবে।
তারা আরও বলেন, দেশের মোট জিডিপির এক-পঞ্চমাংশ আসে ঢাকা থেকে, অথচ শহরটি ঘনবসতি, যানজট, দূষণ, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত। এর জন্য দায়ী মূলত খোলা স্থান ও খাল দখল এবং অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ। গত আট মাসে কোনো মন্ত্রণালয় কার্যকর স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারেনি। বক্তারা ব্যাংককের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে একসময় বস্তি ছিল, কিন্তু তারা কমিউনিটি-ভিত্তিক হাউজিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন এনেছে। ঢাকাতেও ৮ ধরনের মহল্লা রয়েছে, যেগুলোতে মডেল হাউজিং তৈরি করা হলে মানুষ উৎসাহিত হবে।








