,
পাকিস্তানের পাল্টা জবাব

ভারতের ১৫ শহরে মিসাইল হামলার অভিযোগ

ভারতের ১৫ শহরে মিসাইল হামলার অভিযোগ

ভারতের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৫টি শহরে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও গুজরাটে এই হামলা হয় বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে—এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারত লাহোরসহ পাকিস্তানের একাধিক শহরের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। বিশেষ করে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তানের ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা থেকে আরও হামলার প্রচেষ্টাও ভারতীয় বাহিনী ব্যর্থ করে দেয়।

ভারতের সামরিক সূত্র জানায়, শ্রীনগর, পাঠানকোট, অমৃতসর, লুধিয়ানা ও চণ্ডীগড়সহ একাধিক শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম ব্যবহার করে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়।

পাকিস্তানের হামলার পর ভারত ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের কাজ শুরু করে। পাল্টা হামলায় ভারত ‘হারপি’ ও ‘হারোপ’ ড্রোন ব্যবহার করে, যেগুলো শত্রুপক্ষের রাডার শনাক্ত করে আঘাত হানার জন্য নির্মিত।

এর আগে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি শহরে একযোগে হামলা চালায়। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার বদলা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানায় ভারত। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সারাদিন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, তারা ইসরায়েলের তৈরি ২৫টি হারোপ ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করেছে। রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদরদপ্তরের কাছে একটি ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, লাহোরের নিকটবর্তী একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভারতীয় ড্রোন হামলায় চারজন সেনা আহত হয়েছেন। আর সিন্ধু প্রদেশে আরেকটি হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, লাহোরসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে এবং হামলার পর স্থানীয় মানুষজন সামরিক স্থাপনাগুলোর পাশে ভিড় করেন।

এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা ঘটে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর, যেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ২৬ জন নিহত হন। এরপর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ