বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে পরিবর্তনের নেতৃত্বে ড. ইউনূস: দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে পরিবর্তনের নেতৃত্বে ড. ইউনূস: দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন-potheprantore-sami-uddin-sakin

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পর বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের পথে রয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এমনটাই বলেছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনকাল ছিল এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতনের মুখে পড়ে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. ইউনূস, যিনি বলেন, “আমরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। জনগণ আমাদের পাশে আছে।”

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাও চলছে। যদিও এসব অভিযোগ হাসিনা অস্বীকার করেছেন।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ড. ইউনূস বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক কমিশন গঠন করেন। এসব কমিশনে শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীরা কাজ করছেন। এদের তদারক করছে “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন” নামের একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা, যা এখন পর্যন্ত ১৬৬টি প্রস্তাব তৈরি করেছে এবং দেশের ৩৫টি রাজনৈতিক দলের মতামত গ্রহণ করেছে। এই কমিশন ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি রূপরেখা তৈরির কাজ করছে, যার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের পথ সুগম হবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তবে সব উদ্যোগের প্রতি সবার সমর্থন নেই। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, তৈরি পোশাক খাতের জন্য আলাদা কমিশনের প্রয়োজন ছিল এবং শিক্ষাখাত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নারী অধিকার কমিশনের উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে, যা জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তারপরও অনেকে আশাবাদী। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রিয়াজ জানান, বিচারপতি নিয়োগে ইতোমধ্যে স্বাধীনতা এসেছে এবং তিনি আশা করছেন আগস্টের মধ্যেই চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি হবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হতে পারে। ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও তিনি নিজে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংক খাত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধীর এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন হয়নি এবং নিয়মিতই বিক্ষোভ হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি—আওয়ামী লীগের বিচার। গত ১২ মে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে। যদিও দলটি এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, তথাপি তাদের কিছু সামাজিক ভিত্তি এখনো রয়েছে। দলের নেতা মোহাম্মদ আরাফাত দাবি করেছেন, “আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছিলাম, জঙ্গিরা আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও আওয়ামী লীগ এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ধরে রেখেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ