,

রয়টার্স প্রতিবেদন / অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা চাপের মুখোমুখি হয়েছে। শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক এমনকি সেনাবাহিনীর দিক থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারকে টিকে থাকতে হচ্ছে। ২৫ মে থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীরাও নতুন একটি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন, যা তাদের ভাষায় “দমনমূলক”।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভেঙে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্তেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা সরকার পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হয় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চাপের মধ্যে আছেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে। ইউনূস ২০২৬ সালের জুনে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও বিএনপি চাইছে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ভোট হোক।

এমন অবস্থায় ছাত্রনেতা ও রাজনীতিকরা ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, ইউনূস সরে দাঁড়াচ্ছেন না।

অন্যদিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ডিসেম্বরেই নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন, যা সরকারের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সরকার বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনূসের প্রেস সচিব একে “যুদ্ধাবস্থা” বলে বর্ণনা করেছেন এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়াকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্রুত নির্বাচন বনাম কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের মাঝে পড়ে সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ