বিনোদন ডেস্ক:
বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন গড়েছেন নতুন ইতিহাস—প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন মঞ্চ হলিউড ওয়াক অফ ফেমে। ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ‘মোশন পিকচার’ বিভাগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীপিকার পাশাপাশি এবার জায়গা পেয়েছেন বিশ্বখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা—ডেমি মুর, এমিলি ব্লান্ট, র্যাচেল ম্যাক অ্যাডামস, তিমোথে চালামেট, ফ্রাঙ্কো নিরো ও খ্যাতিমান শেফ গর্ডন র্যামসে।
হলিউড ওয়াক অফ ফেম সিলেকশন প্যানেল প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্বাচিত ১০০ প্রার্থী থেকে বেছে নেয় ৩৫ জনকে। তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের বোর্ড অফ ডিরেক্টরস। দীপিকার নাম সেই তালিকায় ওঠা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ভারতীয় সিনেমা ও দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির জন্য এক অনন্য মাইলফলক।
দীপিকার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে, ভিন ডিজেলের সঙ্গে “xXx: Return of Xander Cage” ছবির মাধ্যমে। এরপর আর হলিউড সিনেমায় না দেখা গেলেও, কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন শো—বিশ্বের নানা প্রান্তে দীপিকার উপস্থিতি তাকে এনে দিয়েছে গ্লোবাল স্টারডম। ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ভারতের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সময়সীমা নিয়ে তার বক্তব্য কিছু বিতর্ক তৈরি করলেও, বর্তমানে দীপিকা ব্যস্ত রয়েছেন নির্মাতা অ্যাটলির একটি ৬০০ কোটির মেগা প্রজেক্ট নিয়ে, যেখানে তিনি মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন।
বলিউডের চেনা কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে দীপিকা নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। খান কিংবা কাপুর নামের ছায়ায় না দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন এক শক্তিশালী ব্র্যান্ড। আর হলিউড ওয়াক অফ ফেমে তার নাম তোলা সেই ব্র্যান্ডেরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
এই অর্জন আরও একবার প্রমাণ করল—ভারতীয় সিনেমা এখন বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছে, গর্বের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। দীপিকার এ সাফল্য তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়, এটি এক দেশের, এক সংস্কৃতির, এক জাতির সম্মান।








