(ছবি সংগৃহিত)
নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানী এবং সেই অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র্যাব। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শাহ পরানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, অভিযানে শাহ পরানের কাছ থেকে নির্যাতনের ভিডিও, ছবি ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার মূল প্ররোচনার পেছনে ছিল পারিবারিক বিরোধ। র্যাবের দাবি, বড় ভাই ফজর আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ছোট ভাই শাহ পরান পরিকল্পিতভাবে এই বর্বর ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছেন।
ব্রিফিংয়ে র্যাবের বক্তব্য
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“বাহেরচর গ্রামের শহিদের দুই ছেলে—বড় ভাই ফজর আলী ও ছোট ভাই শাহ পরান—দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী নারীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধে হাতাহাতি হয় এবং গ্রাম্য শালিসে বড় ভাই ছোট ভাইকে প্রকাশ্যে চড় মারেন। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে শাহ পরান পরিকল্পনা করতে থাকেন।”
তিনি আরও জানান, “শালিসের কিছুদিন পর ভুক্তভোগীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকার অজুহাতে ২৬ জুন রাতে ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে ফজর আলী ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর শাহ পরান পূর্বপরিকল্পিতভাবে এলাকার আরও ৮-১০ জনকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। তারা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানী করেন এবং অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা ইমো ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।”
প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেফতার
ঘটনার পর শাহ পরান ও অন্যান্য অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু র্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে শাহ পরানকে গ্রেফতার করে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি এই নৃশংস ঘটনা ঘটান এবং অন্যান্য আসামিদের ইমোতে মেসেজ দিয়ে একত্রিত করেন।
র্যাব জানিয়েছে, শাহ পরানকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের বাহেরচর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই বর্বর ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর ২৯ জুন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় ধর্ষণে অভিযুক্তসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই নির্মম ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।








