আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:
এই ম্যাচ জিতলেও হতো, না জিতলেও কিছু যেত আসত না। তবুও জিতল। শুধু জয় নয়, গোলে গোলে রাঙিয়ে রাখল মাঠটা। যেন বলে দিল—আমরাও পারি, আমরাও স্বপ্ন দেখি, আর সেই স্বপ্নকে গোলপোস্টে বলের মতো জড়িয়ে ধরার কৌশল আমরা ভালোই জানি।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া ম্যাচটা ছিল নিছকই নিয়মরক্ষার। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আগেই এশিয়ান কাপ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষকে দেখে কে বলবে—এটা কোনো ‘নিয়মরক্ষার’ লড়াই? স্বপ্না, শামসুন্নাহার, মনিকা, ঋতুপর্ণারা যেন জবাব দিলেন, প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে দায়িত্ব, গর্ব, আর দেশের সম্মান।
শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নার গোল দিয়ে, ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই। স্বপ্না যেন বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আক্রমণের গন্ধ। তারপর একের পর এক ঝড়—৬ মিনিটে শামসুন্নাহার, ১৩ মিনিটে আবারো তিনি, ১৬ মিনিটে মনিকা, ১৭ মিনিটে ঋতুপর্ণা। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তখন খেই হারিয়ে ফেলেছেন। বাধ্য হয়ে ১৯ মিনিটেই বদলি।
তবে গোলের উৎসব থেমে থাকেনি। ২০ মিনিটে তহুরার ছোঁয়ায় স্কোরলাইন হয়ে যায় ৬-০। খেলার গতি কিছুটা কমলেও গোলের ক্ষুধা কমেনি। ৪০ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়েই বাঁ পায়ের ঝলকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করে ঋতুপর্ণা চাকমা।
প্রথমার্ধের শেষে যখন স্কোরলাইন ৭-০, তখন দর্শক ভাবছিল, দ্বিতীয়ার্ধে আরও কিছু চমক আসবে। কিন্তু তেমনটি হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল হয়নি, তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল পুরো ম্যাচজুড়ে।
তিন ম্যাচে তিন জয়। ১৬ গোল। কেবল একবার নিজেদের জালে বল দেখা। ‘সি’ গ্রুপের নিরঙ্কুশ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের মূল পর্ব এখন একেবারেই সামনে।
এই জয় শুধু একটা ম্যাচ জেতা নয়। এটা একটি দেশকে দেখানোর গল্প—আমরাও পারি। আমাদের মেয়েরা পারদর্শী, প্রস্তুত, এবং সবচেয়ে বড় কথা—প্রেরণায় ভরপুর।
আশা করাই যায়, সামনের পর্বে এই মেয়েরাই গড়বে নতুন ইতিহাস।
আর আমাদের কাজ? দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়া। গর্ব নিয়ে বলা—এই মেয়েরাই আমাদের বাংলাদেশ।








