,

ভানভীরের জাদুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

আফসার রেজা, ক্রীড়া সাংবাদিক:

একটা সময় মনে হচ্ছিল, আবার সেই পুরনো গল্প—ভালো শুরু, মাঝপথে ধস, শেষে হার! কিন্তু কলম্বোতে আজ এক নতুন গল্পের জন্ম দিল বাংলাদেশ। হারার পর ফিরে আসার গল্প। যারা হার মানে না, যারা লড়াই করতে জানে, সেই টাইগারদের গল্প। আর এই গল্পের নায়ক—তানভীর ইসলাম।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ছিল অনেকটাই বাঁচা-মরার ম্যাচের মতো। প্রথম ম্যাচ হেরে পেছনে পড়ে থাকা বাংলাদেশ আজ যেন পেছনে ঠেলে দিল সব অনিশ্চয়তা, সব শঙ্কা। হার দিয়ে শুরু করে জয়ে ফেরার আনন্দটাও যে আলাদা! আর সেটা এলো ১৬ রানের জয় দিয়ে, তাও প্রতিপক্ষের মাঠে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইনিংস যেন একটা অদ্ভুত সমীকরণ। ২৪৮ রান—কোনো দিক থেকে বিশাল নয়, আবার একেবারেই ছোটও নয়। কিন্তু উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪৫ ওভার ৫ বলে! ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন করেন চমৎকার ৬৭ রান। তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকেও এসেছে মূল্যবান ৫১ রান।

কিন্তু আসল নাটকটা শুরু হয় পরে, শ্রীলঙ্কার ইনিংসে।

লঙ্কানদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। কুশল মেন্ডিস আর মাদুশকার ঝড়ো জুটি তখন বাংলাদেশের জন্য চিন্তার ভাঁজ তৈরি করছিল। বিশেষ করে মেন্ডিস যখন মাত্র ৩১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন, তখন মনে হচ্ছিল আজকের ম্যাচও বুঝি হাতছাড়া!

তবে ক্রিকেট তো শুধু স্কোরবোর্ডের খেলা নয়। খেলাটা মনের, মুহূর্তের, চাপের। আর সেই চাপেই ভেঙে পড়ল লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ।

বাংলাদেশের স্পিন ত্রয়ী যেন হঠাৎ করেই ঢেউয়ের মতো ভাঙতে শুরু করল প্রতিপক্ষের ব্যাটিং। প্রথম ধাক্কাটা দিলেন শামীম হোসেন। এরপর তানভীর এলেন যেন মঞ্চে নায়ক হয়ে। টার্ন, ফ্লাইট আর নিখুঁত লাইন-লেন্থে একে একে তুলে নিলেন পাঁচটি উইকেট। থিকশানার ক্যাচ যখন রিশাদের হাতে ধরা পড়ে, তখন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

এমন একটা দিন, যেদিন বল তার কথা শুনেছে।

লঙ্কানদের হয়ে লিয়ানাগে চেষ্টা করেছিলেন প্রাণপণে। ৮৫ বলে ৭৮ রান—এমন ইনিংস শুধু স্ট্যাট না, তা ছিল এক রকমের বিদ্রোহও। কিন্তু তার পাশে কেউ ছিল না। চামিরার ১৩, আসিথার ৩—কোনোটিই দলের হার এড়াতে যথেষ্ট হয়নি।

বাংলাদেশের হয়ে তানভীর ইসলাম ৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৩৯ রান দিয়ে। তাঁর জাদুকরী স্পিনে কাবু হয়ে গেছে পুরো লঙ্কান ব্যাটিং। তানজিম সাকিব পেয়েছেন ২টি উইকেট, আর মিরাজ, মুস্তাফিজ ও শামীম ১টি করে।

শেষ মুহূর্তে মাঠে থাকা টাইগারদের চোখেমুখে তখন উচ্ছ্বাস, গর্ব আর আশার ঝিলিক। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়। এটি বিশ্বাস ফেরানোর জয়, প্রত্যাবর্তনের জয়।

তানভীরের হাতে বল, হাতে ম্যাচ। আর টাইগারদের হাতে আবারও সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা।

কলম্বোতে লেখা হলো ফেরার গল্প। প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে সমতা। আর সেই গল্পের হেডলাইন—তানভীর ইসলাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ