সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইসিইউতে ফরিদা পারভীন, অর্থসাহায্যের দরকার নেই—জানালেন ছেলে

বিনোদন ডেস্ক:

বাউল সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি, একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে দু’বার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ডায়ালাইসিস চলাকালে নতুন জটিলতা দেখা দিলে তাকে আবারও আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, অর্থের অভাবে ফরিদা পারভীনের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। প্রিয় শিল্পীকে ঘিরে এমন খবর শুনে অনেকেই মর্মাহত হন। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নোমানি। তিনি বিষয়টিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন দাবি করেছেন এবং এতে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নোমানি লেখেন, “আপনারা অনেকেই জানেন, আমাদের আম্মা, কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন কিছুদিন ধরে অসুস্থ। আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তার নাম ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অথচ তার চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই এবং এ ধরনের কোনো আবেদনও আমাদের পক্ষ থেকে করা হয়নি। তার চিকিৎসা যথাযথভাবে চলছে, আলহামদুলিল্লাহ। সকলকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও লেখেন, “আম্মার চিকিৎসার বিষয়ে যা যা করা দরকার, তা যথাসাধ্য করা হচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ অনেক উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন—আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আম্মা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সব ধরনের অনুদান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি চান, এসব সরকারি অনুদান যেন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষদের কাজে লাগে।”

নোমানি প্রশ্ন রাখেন, “যেসব পেজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফরিদা পারভীনের নামে যত্রতত্র অনুদান চেয়ে বেড়াচ্ছে, তারা কি বুঝতে পারছে না এটি তার জন্য কতটা অসম্মানজনক?”

এদিকে ফরিদা পারভীনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সংগীত অঙ্গনে এবং ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে কিডনি রোগে আক্রান্ত এই গুণী শিল্পী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। ৭০ বছর বয়সী ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও অবিচল থেকেছেন সংগীতচর্চায়।

বিশেষ করে লালন সংগীত প্রচারে তার অবদান স্মরণীয়। ‘নারী আমার জানে দুঃখের ভাষা’, ‘তোমার বাঁশিতে’, ‘ভ্রমর কইও গিয়া’—এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান বাংলা সংগীতকে করেছেন সমৃদ্ধ, মানুষের হৃদয়ে তৈরি করেছেন স্থায়ী আসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ