সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ: ইউএনএফপিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখ (১৭৫.৭ মিলিয়ন)। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কর্মক্ষম, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

সোমবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএফপিএ’র বার্ষিক প্রতিবেদন ‘বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি উন্মোচন করেন ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। তিনি জানান, ২০২৫ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮.২ বিলিয়ন। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৭৫.৭ মিলিয়ন, যার অর্ধেক নারী এবং দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১১৫ মিলিয়ন মানুষ কর্মক্ষম।

তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের জন্য ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল অর্জনের একটি সুবর্ণ সুযোগ।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, যা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

তরুণদের প্রসঙ্গে বলা হয়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ (প্রায় ৩৩ মিলিয়ন) কিশোর-কিশোরী এবং ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা প্রায় ৫০ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ।

এ বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম— ‘বাস্তবিক প্রজনন সংকট: একটি পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে প্রজনন ব্যবস্থার লক্ষ্য’। এতে বলা হয়েছে, প্রজনন বিষয়টি কেবল জন্মসংখ্যার সঙ্গে নয়, বরং প্রজনন ব্যবস্থায় মানুষের সক্ষমতা ও অধিকার চর্চার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ক্যাথরিন কামকং বলেন, “বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে নারী ও যুবকরা পদ্ধতিগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সন্তান জন্মদানের ইচ্ছা পূরণে অক্ষম।”

প্রতিবেদনে ইউএনএফপিএ’র বৈশ্বিক জরিপ, একাডেমিক গবেষণা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রজনন প্রবণতা ও প্রজনন অধিকার বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রজনন হারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় গড় প্রজনন হার মাত্র ০.৮ শিশু, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, আফ্রিকার নাইজারে প্রতি নারী গড়ে ৫.৮ শিশু জন্ম দেয়, যা সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে মোট প্রজনন হার (TFR) ২.১, যা মধ্যম স্তরে অবস্থান করছে। তবে দেশের কিছু এলাকায় এখনও কিশোর বয়সে গর্ভধারণের হার বেশি, যার পেছনে রয়েছে বাল্যবিবাহ, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সীমিত ব্যবহার এবং যৌন শিক্ষার ঘাটতি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রজনন আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকছে। এসব দেশে বেশিরভাগ মানুষ দুটি সন্তান কামনা করলেও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন না। আবার কারও কারও সন্তান হয় পরিকল্পনার তুলনায় বেশি, যা তথ্য ও সেবার ঘাটতির কারণে ঘটে।

ক্যাথরিন কামকং আরও বলেন, “বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগ জিডিপির ০.৭ শতাংশ এবং সাধারণ বাজেটের ২ শতাংশ। অথচ এই খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং বাজেটের ১৫ শতাংশ করা প্রয়োজন।”

তিনি মনে করেন, এই খাতে বিনিয়োগ বাড়লে দক্ষ ধাত্রী ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও নারীর পছন্দ অনুযায়ী গর্ভনিরোধক সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএফপিএ কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, সরকারি প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ