শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি নিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক:

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপকারী সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সাংঘর্ষিক এবং বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ১৩৯ পৃষ্ঠার এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে দেওয়া রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ২০ ও ২১ ধারা ছাড়াও ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে বাতিল ঘোষণা করেন।

২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি অনুচ্ছেদে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়।

তবে হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে, সংশোধনী আইনের পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি যেসব বিধান রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংবিধানের বিধানগুলো সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে পারবে।

এ ছাড়া রায়ে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের যে বিধান ছিল, তা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়েছিল—এ বিষয়েও আদালত মত দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণভোট বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটসংক্রান্ত বিধান পুনর্বহাল করা হলো।

এই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রিট করেন। হাইকোর্ট পরদিন ১৯ আগস্ট রুল জারি করে জানতে চায়, সংশোধনীটি কেন সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।  রুলের উপর দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ