শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের চালান পেলো ইরান: আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী

বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে চীনের এইচএইচকিউ-৯বি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন (ফাইল ছবি: এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষে চীনের কাছ থেকে ভূমি-থেকে-আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা পেয়েছে ইরান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী করতে যুদ্ধবিরতির পরপরই নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে তেহরান।

মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া বক্তব্যে এক আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ জুন যুদ্ধবিরতির পর চীনের তৈরি ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তেহরানে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আরব কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা ইতিমধ্যে জানত যে তেহরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা করছে। এমনকি হোয়াইট হাউসকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

ইরান ঠিক কতটি এসএএম বা ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে তা জানানো হয়নি। তবে একজন আরব কর্মকর্তা জানান, ইরান চীন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিনেছে তেলের বিনিময়ে।

উল্লেখ্য, ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হলো চীন। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি হয় চীনে। কনডেনসেট হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় সংগৃহীত হালকা তরল জ্বালানি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। এমনকি এসব তেল আমদানির উৎস গোপন রাখতে মালয়েশিয়ার মতো দেশকে ট্রানশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বেইজিং।

মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া বক্তব্যে দ্বিতীয় আরব কর্মকর্তা বলেন, (নিষেধাজ্ঞা এড়াতে) ইরান নানা সৃজনশীল উপায়ে বাণিজ্য করে থাকে।

এই অস্ত্রচালান বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে। এমন সময়ে এই চালান এসেছে, যখন পশ্চিমা বিশ্ব ধারণা করেছিল, ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার সময় চীন ও রাশিয়া ইরানের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সময়েও ইরান চীনের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল। ওই সময় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কুয়েতের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তথাকথিত ‘ট্যাংকার যুদ্ধের’ সময় একটি মার্কিন পতাকাবাহী তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা করে ইরান।

২০১০ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান চীনের কাছ থেকে এইচকিউ-৯ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও পেয়েছে।

বর্তমানে ইরান রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে বলে ধারণা করা হয়, যা বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি কিছুটা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধেও সক্ষমতা রাখে।

এ ছাড়া ইরান নিজেদের তৈরি খোরদাদ সিরিজ ও বাভার-৩৭৩ এর পাশাপাশি চীনের তৈরি পুরোনো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও ব্যবহার করে। তবে এসব ব্যবস্থার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার সক্ষমতা সীমিত বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি ইরানে হামলায় ইসরায়েল এফ-৩৫ ব্যবহার করেছে।

প্রসঙ্গত, ১২ দিনের সংঘাতে ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। সুপরিকল্পিত হামলায় তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো গুঁড়িয়ে দেয় এবং কয়েকজন শীর্ষ ইরানি জেনারেল ও পরমাণুবিজ্ঞানীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। পাল্টা হামলায় ইরানও ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা ২৪ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কাছে এইচকিউ-৯ ও এইচকিউ-১৬ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিক্রি করেছে। ধারণা করা হয়, মিসরও চীনের এইচকিউ-৯ ব্যবহার করছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ