শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধনের নির্দেশনা বাতিল: প্রটোকল সংস্কারে উদ্যোগ

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। (ছবি: পিআইডি)

অনলাইন ডেস্ক:

সরকারি নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধনের বিতর্কিত নির্দেশনা বাতিল করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৩তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময় জারি করা অন্যান্য প্রটোকল নির্দেশনাগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে একটি লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নারী মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করতে বলা হয়। এই প্রথা সময়ের সাথে সাথে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে এবং এখনও বিভিন্ন দপ্তরে তা প্রচলিত রয়েছে, যা সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বাভাবিক এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বিরোধী।

এই পটভূমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ‘স্যার’ সম্বোধনের প্রথা অবলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এছাড়াও, সরকারিভাবে প্রচলিত সম্বোধন ও প্রটোকলবিষয়ক অন্যান্য নির্দেশনাগুলো আধুনিক প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের লক্ষ্যে একটি দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেলপথবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ ও পানিসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

প্রেস উইং আরও জানায়, এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রটোকল নীতিমালা ও সম্বোধনপদ্ধতির যুগোপযোগী রূপরেখা প্রণয়ন করে উপদেষ্টা পরিষদের কাছে সুপারিশ পেশ করবে। সুপারিশের আলোকে ভবিষ্যতে একটি সম্মানজনক ও লিঙ্গ-সমতা নির্ভর প্রটোকল সংস্কৃতি গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ, যা নারীর মর্যাদা ও সমতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রশাসনিক ভাষা ও আচরণেও আসবে কাঙ্ক্ষিত শালীনতা ও শুদ্ধতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সম্বোধনের পরিবর্তন নয়, বরং প্রশাসনিক আচরণ ও সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করার জন্য এটি একটি ইতিবাচক সূচনা হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ