,

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনে বাংলাদেশিরা শীর্ষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্ত পেরিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। ইউরোপীয় সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্যানুসারে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

ফ্রন্টেক্স জানায়, যদিও সামগ্রিকভাবে ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে, তবে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত রুট হিসেবে রয়ে গেছে। এ সময় ২৯ হাজার ৩০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী ওই রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশ করেন, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। বিপরীতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়, পশ্চিম বলকান এবং পশ্চিম আফ্রিকান রুট দিয়ে আগমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা মূলত লিবিয়া উপকূল ব্যবহার করে ইতালির দিকে যাত্রা করছেন। চলতি বছর ইতালিতে পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৮০০ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি। নতুনভাবে গড়ে ওঠা লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ পর্যন্ত রুটের কারণে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবেশ কিছুটা বেড়েছে।

ফ্রন্টেক্স আরও জানায়, প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে প্রবেশকারী অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে থাকলেও তাদের পরই রয়েছেন মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা। অন্যদিকে, পশ্চিম আফ্রিকান রুটে অভিবাসনপ্রবাহ ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ সময়ে শনাক্ত করা হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ জন এবং কেবল জুন মাসে এই রুট দিয়ে মাত্র ৩০০ জন প্রবেশ করেন।

ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ট্রানজিট দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ফলে কিছু রুটে প্রবেশের হার কমেছে বলে মনে করছে ফ্রন্টেক্স।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করেছেন ৩১ হাজার ৯৪৮ জন অভিবাসী। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩১১ জনই বাংলাদেশি, যা মোট প্রবেশের প্রায় ৩২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরিত্রিয়া (৪,৪৬১ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসর (৩,৭২৩ জন)।

এছাড়া পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সুদান, সিরিয়া, সোমালিয়া, গিনি, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, মালি ও আইভরিকোস্টের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ইতালিতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

এ সময়ের মধ্যে ইতালিতে পৌঁছানো সঙ্গীবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৫ হাজার ৫৭৫ জনে পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৩ সালে পুরো বছরে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৫২।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়া নাগরিকদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এবং অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই বিপজ্জনক সাগরযাত্রা বেছে নিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: ফ্রন্টেক্স, ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইনফোমাইগ্রেন্টস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ