রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সুয়েইদায় বেদুইন সুন্নি গোত্র ও দ্রুজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে লন্ডনভিত্তিক যুদ্ধ-পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ৩৭ জন ছাড়িয়ে গেছে।

সুয়েইদা শহরের সরকারি হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংঘর্ষের পর অন্তত ১৫ জনের মরদেহ মর্গে নিয়ে আসা হয়। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের পার্শ্ববর্তী দেরা’য় শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরেই দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) রাজধানী দামেস্কে অভিযান চালিয়ে আসাদ সরকারের পতন ঘটায়, যা দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

এর পর থেকেই দেশজুড়ে জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ একাধিকবার ভয়াবহ রূপ নেয়। এপ্রিল ও মে মাসেও এমন হামলায় প্রাণ হারান প্রায় ৫০ জন।

সুয়েইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জাতীয় পুনর্গঠনের এই সময় সংযম ও সংহতিই একমাত্র পথ।” দেশটির আধ্যাত্মিক নেতারাও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন।

দ্রুজ সম্প্রদায় মূলত লেবানন, জর্ডান ও ইসরায়েলে বসবাস করলেও, সিরিয়ায়ও তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। আসাদ শাসনামলে তারা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখলেও, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিবিসিকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের প্রধান উদ্বেগ শারীরিক হামলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেঙে পড়া।

এই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই সিরিয়া ইস্যুতে পশ্চিমা দুনিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র হায়াত তাহরির আল-শামকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সিরিয়ায় সফর করেন—যা ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ মন্ত্রীর দেশটিতে যাত্রা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট। কারণ, সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ