শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক

(প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ। আর্থিক খাত সংস্কারে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা, নারীর ক্ষমতায়নেও অঙ্গীকার)

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সদ্য নিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতি গভীর সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আর্থিক খাতে গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভূটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

জুট বলেন, “আপনি এবং আপনার দুর্দান্ত দল একটি অসাধারণ কাজ করছেন—এর জন্য ধন্যবাদ জানাই।” তিনি ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভূটান ও নেপালে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসার কথা জানান।

অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের সাহসী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশ ও এর জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। এ পথচলায় আমরা পাশে থাকব।”

তিনি গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “সেই সময় ছিল বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্ত সবাইয়ের জন্য এক আবেগময় অধ্যায়।”

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন বাংলাদেশ যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, যেন এক ভয়াবহ ভূমিকম্প-পরবর্তী চিত্র। অভিজ্ঞতা না থাকলেও সব উন্নয়ন সহযোগী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এতে আমরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।”

তিনি জুলাই আন্দোলনে তরুণ-তরুণীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “গত জুলাইয়ে যা ঘটেছে, তা ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেবে। বিশেষ করে মেয়েরা যে ভূমিকা রেখেছে, তা অনন্য। আজ আমরা ‘জুলাই নারী দিবস’ পালন করছি, যেন তাদের ত্যাগ বৃথা না যায়।”

তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশকে শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা হিসেবে নয়, বরং একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করুন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি মানেই গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধি।”

তিনি যুক্ত করেন, “অনেক দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই আমরা বলছি, তাদের শিল্প-কারখানাগুলো বাংলাদেশে স্থানান্তর করুন। আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেব, যেন বাংলাদেশ একটি প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।”

নারীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকার প্রশংসা করে জুট বলেন, “বিশ্বব্যাংক আপনাকে সমর্থন দিয়ে যাবে। মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে কাজ শুরু হয়েছিল, তা এখন অন্য দেশেও অনুসরণ করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক আগামী তিন বছরেও বাংলাদেশের জন্য বার্ষিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।

সাক্ষাৎকালে লুৎফে সিদ্দিকী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর পরিচালনায় নতুন ব্যবস্থার ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইন্ট্রা-কোম্পানি ঋণ ও শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।

এই বৈঠকে দুই পক্ষই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র: বাসস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ