সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মহানায়ক বুলবুল আহমেদকে হারানোর ১৫ বছর

বিনোদন ডেস্ক:

বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন ছিলেন বুলবুল আহমেদ। সাদাকালো পর্দায় আবির্ভূত হলেও তিনি সময়ের সীমানা পেরিয়ে বহু প্রজন্মের হৃদয়ে রঙিন আলো ছড়িয়ে গেছেন। সুদর্শন নায়ক হিসেবে সত্তর ও আশির দশকে যাঁরা বাঙালি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, তরুণীদের স্বপ্নের পুরুষে পরিণত হয়েছিলেন—তাঁদের অন্যতম ছিলেন তিনিই। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তাকেই প্রথম ‘মহানায়ক’ উপাধি দেওয়া হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম ‘দেবদাস’-এর চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করা অভিনেতাও ছিলেন তিনি। আজ ১৫ জুলাই, তার প্রয়াণের ১৫ বছর। ২০১০ সালের এই দিনেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন তিনি।

এ উপলক্ষে বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া ও মিলাদের। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার কন্যা, অভিনেত্রী ও মডেল তাজরিন ফারহানা ঐন্দ্রিলা।

১৯৪১ সালে পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা বুলবুল আহমেদের প্রকৃত নাম তাবারক আহমেদ। পারিবারিক ডাকনাম ‘বুলবুল’-ই পরবর্তীতে তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তার অভিনয়জীবন শুরু হয় আবদুল্লাহ আল-মামুন পরিচালিত টিভি নাটক ‘বরফ গলা নদী’ দিয়ে।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘মালঞ্চ’, ‘ইডিয়ট’, ‘মাল্যদান’, ‘বড়দিদি’, ‘আরেক ফাল্গুন’ ও ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’। চার শতাধিক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৭৩ সালে, ইউসুফ জহির পরিচালিত ‘ইয়ে করে বিয়ে’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমা তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা।

তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে—‘মহানায়ক’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য্যকন্যা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘জীবন নিয়ে জুয়া’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘বধূ বিদায়’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দি ফাদার’, ও ‘দুই নয়নের আলো’।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। ‘ওয়াদা’, ‘মহানায়ক’, ‘ভালো মানুষ’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘আকর্ষণ’, ‘গরম হাওয়া’ ও ‘কত যে আপন’ তার পরিচালিত সফল সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি—১৯৭৭ সালে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ১৯৭৮ সালে ‘বধূ বিদায়’, ১৯৮০ সালে ‘শেষ উত্তর’ এবং ১৯৮৭ সালে ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবির জন্য।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহানায়ক আজ নেই, কিন্তু তার কাজ, উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্ব আজও স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলা সংস্কৃতির অমলিন ইতিহাসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ