আফসার রেজা, ক্রীড়া প্রতিবেদক:
একটা সময় ছিল, ফুটবলে পেনাল্টি মিস হলেও ছিলো দ্বিতীয় সুযোগ। অর্থ্যাৎ, গোলকিপার শট ঠেকালেও, বল যদি ছিটকে ফিরে আসে, তখনো একটা আশার আলো থাকে। কে জানে, ফিরতি বলে গিয়ে জাল কাঁপিয়ে দেওয়ার সেই সম্ভাবনাটাই হয়তো হয়ে ওঠে ম্যাচ নির্ধারণকারী মুহূর্ত। কিন্তু সেই চিরচেনা দৃশ্যটা হয়তো বদলে যাচ্ছে—আরেকটু নির্দয়, আরেকটু কঠিন বাস্তবতায়।
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই সম্ভবত বদলে যাচ্ছে ফুটবলের পেনাল্টির সংজ্ঞা। নতুন যে নিয়মটি নিয়ে আলোচনা করছে ফুটবলের আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড), সেখানে বলা হচ্ছে—পেনাল্টি শট যদি গোলকিপার ঠেকিয়ে দেন কিংবা বল ক্রসবার বা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, তখন আর ফিরতি শট নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। খেলা পুনরায় শুরু হবে সরাসরি গোল কিক দিয়ে।
ভাবুন, ২০২০ ইউরোর সেমিফাইনালের সেই মুহূর্ত—হ্যারি কেইনের নেওয়া পেনাল্টি শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ডেনমার্কের ক্যাসপার স্মাইকেল। কিন্তু কেইন ঠিকই ফিরতি বলে গোল করে দেন। নতুন নিয়ম হলে? কেইনের সেই গোল হয়তো শুধু বাতিলই হতো না, ইংল্যান্ডের জন্য হয়তো ইতিহাসটাই হতো অন্যরকম।
আইএফএবি’র ভাবনায় ফুটবলের নিয়মে আরও কিছু ‘হকির ছোঁয়া’ আনা—পেনাল্টি হবে এক শটের খেলা। গোল হলে মাঝমাঠ থেকে খেলা আবার শুরু। আর মিস করলেই প্রতিপক্ষ গোল কিক নেবে। কোনো কর্নার নয়, কোনো দ্বিতীয় চেষ্টা নয়। একটা শট, একটা সিদ্ধান্ত।
কারও কারও মতে, এ নিয়ম গোলকিপারদের প্রতি সামান্য সুবিচারও বটে। কারণ, গোল ঠেকিয়ে আবার ফিরতি বলে গোল খাওয়া—তা যেন একরকম ‘দ্বিগুণ শাস্তি’ হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণভাগের জন্য। তার ওপর গোলকিপারের বাধ্যবাধকতা তো রয়েছেই—পেনাল্টি নেওয়ার সময় অন্তত একটি পা গোললাইনে রাখতে হয়।
এই নতুন ভাবনার পেছনে অবশ্য একটা সময়চেতনা আছে। ফুটবল আধুনিক হচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। ৪৮ দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে এমন কিছু সংস্কার ফুটবলের ‘নতুন যুগ’ ঘোষণার মতো।
তবে এখানেই শেষ নয়। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও ভাবছে আইএফএবি। কর্নার সিদ্ধান্ত কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড—এসব ক্ষেত্রেও এখন ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে, তবে সেটা শুধুমাত্র তখনই, যখন রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাব বিশ্বকাপ চলাকালীন এই নিয়মগুলো নিয়ে আইএফএবির সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ ইতিবাচক মনোভাবও জানিয়েছেন।
তবে, সবকিছু বাস্তবায়ন করতে হলে সময় আছে খুব অল্প। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রস্তাবিত নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করতে হবে।
ফুটবল বদলাচ্ছে—অবশ্য ফুটবল সবসময়ই বদলায়। কিন্তু কখনো কখনো সেই বদলটা শুধু খেলার নিয়মে নয়, বদলে দেয় খেলার আবেগও। প্রশ্ন একটাই—পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় সুযোগ ছিনিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কি ফুটবলকে আরও ন্যায্য করবে? নাকি কেড়ে নেবে সেই উত্তেজনার শেষ চুম্বকটুকু?
উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। আমরা শুধু অপেক্ষায় থাকি, পরের বিশ্বকাপে নতুন এই নিয়মের শিকার হবেন কে?








