নিজস্ব প্রতিবেদক:
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার জেরে পুরো শহরে টানা কারফিউ চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহর ও আশপাশের এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি নদীপথেও জোরদার টহল দিচ্ছে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ জানান, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা যাতে নদীপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য গোপালগঞ্জের নদীপথে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সন্দেহভাজন নৌযান তল্লাশি, যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে শহরের ভেতরে এবং বাইরের সড়কপথেও যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হন। শহরে উত্তেজনার সূচনা ঘটে মঙ্গলবার থেকেই। বুধবার সকালে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সহিংসতা শুরু হয়।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউএনওর গাড়িতে হামলা, পৌরপার্কে স্থাপিত এনসিপির সমাবেশমঞ্চে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলা—ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির চরম অবনতিতে দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে কারফিউ জারি করা হয়, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখছে সরকারের উচ্চ পর্যায়। গোপালগঞ্জজুড়ে চলছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।








