নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আজ সকাল ১০টা থেকেই জমায়েত হতে থাকেন শত শত শোকাহত শিক্ষার্থী। একদিন আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সহপাঠীদের প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ছয় দফা দাবি তুলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। মুহূর্তেই চারদিক মিছিলে ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘সঠিক লাশের হিসাব চাই’—এমন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বরে সড়কের ওপর বসে অবস্থান কর্মসূচি চালান। পুলিশ বারবার সরে যেতে বললেও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, “আমরা কোনো সহিংসতা চাই না। কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনার পরও কেউ দায় নিচ্ছে না। আমাদের সহপাঠীরা মারা গেল—এটা কি ভুলে যাওয়ার মতো? আমরা অবিচারের বিচার চাই, স্বচ্ছ তদন্ত চাই।”
তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. নিহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ও পরিচয় প্রকাশ।
২. আহতদের নির্ভুল তালিকা প্রকাশ।
৩. শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য প্রশাসনের নিঃশর্ত ক্ষমা।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল।
৬. প্রশিক্ষণ পদ্ধতির আমূল সংস্কার
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু শিক্ষার্থী। নিহতদের একজন ছিলেন নারী শিক্ষক এবং অন্যজন স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির, যিনি বিমানটি চালাচ্ছিলেন।
আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং দেড়টার কিছু পর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর হায়দার হল নামে পরিচিত স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নেয়।








